যুক্তরাষ্ট্রে এবার ভুট্টা ও সয়াবিন তোলা স্বাভাবিকের চেয়ে আগে এগোচ্ছে, কিন্তু মাঠ থেকে যে ফসল উঠছে তা সমান নয়। কৃষি সাময়িকী সাকসেসফুল ফার্মিং তাদের ‘ক্রপ ক্রু’র কৃষিবিদদের কাছে এক শব্দে এবারের ফসল তোলার বর্ণনা চাইলে পাঁচজনই বলেছেন ‘ভ্যারিয়েবল’—অর্থাৎ অসম, জায়গাভেদে আলাদা।
মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২১ সেপ্টেম্বরের ক্রপ প্রোগ্রেস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুট্টার ১৩ শতাংশ তোলা হয়ে গেছে, যা পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে ২ শতাংশ-বিন্দু এগিয়ে। ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে সয়াবিন তোলা হয়েছে ১২ শতাংশ, গড়ের চেয়ে ৪ বিন্দু বেশি।
পশ্চিম আইওয়া ও পূর্ব নেব্রাস্কার স্বাধীন কৃষিবিদ কেটি জরগেনসেন বলেন, দানা ভরার সময়ের গরমে আগাম পাকা সয়াবিনের সর্বোচ্চ ফলনের সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে; অনেক শুঁটি অসমভাবে ভরেছে, কিছু শুঁটি ঝরেও গেছে। দেরিতে পাকা জাতগুলো মৌসুমের শেষ দিকের বৃষ্টি পেয়ে ভালো ভরেছে। উইসকনসিনে সিনজেন্টার নিক গ্রোথ রাজ্যের দক্ষিণে ভালো ফলনের আশা করলেও উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধের খরায় বড় ক্ষতির কথা বলেছেন। দক্ষিণ মিনেসোটা ও পূর্ব সাউথ ডাকোটার দায়িত্বে থাকা উইফেলসের জ্যারেড গোপ্লেনের হিসাবে ভুট্টার ফলন একরপ্রতি ১০০ বুশেলের অনেক নিচ থেকে ৩০০ বুশেলের বেশি পর্যন্ত হতে পারে; কোথাও কোথাও পুরো মৌসুমে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৭ ইঞ্চি।
সবাই অবশ্য সতর্ক সুরে কথা বলেননি। এফএমসির ম্যাডিসন ওজনিয়াক দক্ষিণ ইলিনয়, দক্ষিণ ইন্ডিয়ানা ও পূর্ব মিজৌরিতে ফসল তোলাকে ‘সলিড’ বা মজবুত বলেছেন—শুকনো আবহাওয়ায় কাজ দ্রুত এগোচ্ছে, কোথাও কোথাও রেকর্ড ফলনও মিলছে। বেকস হাইব্রিডসের কৃষিবিদেরা মিনেসোটায় ‘সামগ্রিকভাবে ভালো’ আর কেন্টাকি ও দক্ষিণ ইন্ডিয়ানায় ‘অনুকূল’ বলেছেন; সেখানে শুকনো বপনকাল আর দানা ভরার সময় নিয়মিত বৃষ্টি ভালো ফলনের ভিত গড়ে দিয়েছে।
অন্যদের কণ্ঠে হতাশা। উইফেলসের রবি মিকার ইলিনয়ের ফসল তোলাকে ‘গড়ের নিচে’ বলেছেন; সর্বশেষ ক্রপ প্রোগ্রেস প্রতিবেদনে রাজ্যের ১৪ শতাংশ ভুট্টা ও ১৩ শতাংশ সয়াবিনকে খারাপ বা খুব খারাপ অবস্থায় দেখানো হয়েছে। আইওয়ায় উইফেলসের এরিক উইলসন বলেছেন, আবহাওয়া ভেজা থাকলে ফসল তোলা হবে ধীর। পশ্চিম মিনেসোটা, নর্থ ডাকোটা ও উত্তর সাউথ ডাকোটায় স্টাইনের কৃষিবিদ সুসান ম্যাকব্র্যাডির শব্দ ছিল ‘চ্যালেঞ্জিং’—ফলন গড়ের নিচে, ভুট্টার কাণ্ড দ্রুত দুর্বল হচ্ছে, আর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সয়াবিনের কাণ্ড আবার সবুজ হয়ে ওঠায় তোলায় জটিলতা বাড়ছে।
কয়েকজন কৃষিবিদ ভুট্টার গাছ হেলে পড়া ও মৌসুম-শেষের কাণ্ডের রোগকে ঝুঁকি হিসেবে দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন কেসি বার্চমেয়ার।
ছবি: টিম ম্যাককেব, ইউএসডিএ ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Successful Farming





মন্তব্য
(০)