শীতকালীন গম দেরিতে বুনলে যে ফলন হারায়, বীজের হার বাড়িয়ে তা পুরো ফেরানো যায় না। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মেসন গবেষণা খামারে তিন মৌসুমের পরীক্ষায় এমনটাই দেখা গেছে, জানিয়েছে মিশিগান ফার্ম নিউজ। এবারের মতো যে বছরে সয়াবিন কাটতে দেরি, ভেজা মাঠ আর অন্য মাঠের কাজের চাপে গম বোনা পিছিয়ে যায়, তখন ফলাফলটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাঁচটি বপনকাল এবং একরপ্রতি ৮ লাখ থেকে ২৪ লাখ বীজের পাঁচটি হার পরীক্ষা করা হয়। তিন বছরেই বপন যত পিছিয়েছে, ফলন তত কমেছে। মূল কারণ দানাভরা শীষ কমে যাওয়া: উপযুক্ত সময়ে বোনা গমের তুলনায় শীষের ঘনত্ব প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমে। সময়মতো বোনা গম শরতে বেশি শিকড় ও কুশি ছাড়ে, শীত ভালোভাবে টিকে যায় এবং বেশি শীষ দেয়; দেরিতে বোনা গাছের শিকড় দুর্বল থাকে, শীতে টিকে থাকাও কঠিন হয়।
বীজের হার বাড়ালে গাছের ঘনত্ব ধরে রাখা যায় এবং দেরির ক্ষতি কিছুটা কমে, কিন্তু সময়মতো বোনা গমের ফলনে পৌঁছায় না। গবেষকদের উপসংহার, সময়মতো মাঝারি হারে বোনা আর দেরিতে বেশি হারে বোনার মধ্যে বেছে নিতে হলে সময়মতো বোনাই ভালো। ফলাফল আরও বলছে, উপযুক্ত সময়ে বোনা গমে অনেক চাষি এখন যত বীজ দেন তার চেয়ে কম লাগতে পারে, আর অক্টোবর-নভেম্বরে বপন গড়ালে হার বাড়াতে হবে, যদিও প্রচলিত সুপারিশের সর্বোচ্চ হার কিছুটা কমানো যায়।
মিশিগানে হেসিয়ান মাছি আর বালাই না হলেও তার নিরাপদ তারিখ এখনো ভালো দিকনির্দেশক: এর সাত থেকে ১০ দিন পরে বোনা গম শরতে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কুশি ছাড়ার সময় পায়, অতিরিক্ত বাড়ও হয় না। ওই তারিখের আগে বুনতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ শরতে বেশি বাড়লে রোগ ও পোকার আক্রমণ এবং পরের গ্রীষ্মে গাছ হেলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মিশিগানের বেশির ভাগ গম সয়াবিনের পরে বোনা হয় বলে গবেষকেরা সয়াবিনেই কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছেন। অসম পাকা, সবুজ কাণ্ড বা মৌসুমের শেষের আগাছায় সয়াবিন কাটায় দেরি হলে ফসল শুকানোর রাসায়নিক কাটা দ্রুত করতে পারে, তবে শারীরবৃত্তীয় পরিপক্বতার (আর৭ ধাপ) আগে দিলে সয়াবিনের দানার ওজন ও ফলন কমতে পারে। যাঁরা শিম জাতীয় শুকনো ডাল চাষ করেন, সেগুলো সাধারণত সয়াবিনের ১০ থেকে ১৪ দিন আগে তোলা হয়, তাই ওই জমিতে গম বুনলে সময় বেশি পাওয়া যায়। গবেষণাটি প্রকাশ করেছেন জে. পি. কোপল্যান্ড, ডি. পেনিংটন ও এম. পি. সিং।
ছবি: Elcajonfarms / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Michigan Farm News





মন্তব্য
(০)