ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত অর্গানোফসফরাস কীটনাশক মিথাইল প্যারাথিয়নের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে রটারডাম কনভেনশনের কেমিক্যাল রিভিউ কমিটি, আর দেশগুলো যাতে এর আমদানি ও ব্যবহার নিয়ে জেনেবুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে জন্য গ্রহণ করেছে একটি সিদ্ধান্ত-নির্দেশিকা। ১৫-১৮ সেপ্টেম্বর রোমে কমিটির ২২তম সভায় ১৬ সেপ্টেম্বর এ সিদ্ধান্ত হয়।
দানাশস্য, লেবুজাতীয়সহ নানা ফল, আঙুর, সবজি, শোভাবর্ধক গাছ, তুলা ও মাঠফসলে চর্বণ ও শোষক পোকা দমনে বিশ্বজুড়ে মিথাইল প্যারাথিয়ন ব্যবহৃত হয়। সুরক্ষা সরঞ্জাম পরেও মেশানো ও ছিটানোর সময় এটি কৃষকের জন্য বিপজ্জনক, আর পাখি, মৌমাছি ও জলজ প্রাণীর জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে চরম স্নায়ুবিষ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে।
নির্দেশিকাটি তৈরি হয়েছে ব্রাজিল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের ভিত্তিতে — দুই পক্ষই রাসায়নিকটি নিষিদ্ধ করেছে। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য সংস্থা আনভিসা ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর থেকে এর উৎপাদন, ব্যবহার, বিক্রি, আমদানি ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে; ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০০৩ সালে বিদ্যমান অনুমোদন ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, এরপর আর নতুন অনুমোদন দেয়নি।
নির্দেশিকা এখন যাবে কনভেনশনের পক্ষগুলোর সম্মেলনে, যা ২০২৭ সালের ১৯-৩০ এপ্রিল পানামা সিটিতে বসবে। অনুমোদন পেলে মিথাইল প্যারাথিয়ন 'প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট' পদ্ধতির আওতায় আসবে — রপ্তানিকারক দেশকে বাণিজ্যের আগে আমদানিকারক দেশকে বিস্তারিত ঝুঁকি ও নিরাপত্তা তথ্য দিতে হবে। কমিটির মতে, রাসায়নিকের ঝুঁকি যাচাইয়ের তথ্য ও জনবল যেসব উন্নয়নশীল দেশের নেই, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন কিরণ পাণ্ডে।
ছবি: John Messina / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)