মেহেরপুর সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। আমন ধানে সার দেওয়ার সময়েই শীতকালীন সবজির জমি তৈরি শুরু হওয়ায় ডিএপি ও টিএসপি সারের চাহিদা একসঙ্গে বেড়েছে, কিন্তু বরাদ্দ সেই অনুপাতে আসেনি।
নিশ্চিন্তপুরের কৃষক জহিরুল ইসলাম ৮ বিঘা জমিতে আমন, কলা, করলা, পেঁয়াজ, ফুলকপি ও শসা করছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাশের উজলপুরে ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে পেয়েছেন ৫০ কেজি টিএসপি। '৮ বিঘা জমিতে মাত্র ৫০ কেজি সার দিয়ে কীভাবে ফসল ফলাব?' প্রশ্ন তাঁর; বাড়তি টাকা খরচ করে অন্যভাবে কিছু সার জোগাড় করেছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে এবার জেলায় ২৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে আমন হয়েছে, গত মৌসুমে ছিল ২৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর। বিঘাপ্রতি ১৩ কেজি ধরলে শুধু আমনে ডিএপি ও টিএসপি লাগে প্রায় ২ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। শীতকালীন সবজি হচ্ছে ৪ হাজার ৬৪৭ হেক্টরে; বিঘাপ্রতি ৩০ কেজি হিসাবে সেখানে লাগে প্রায় ১ হাজার ৪১ টন। দুই মিলিয়ে প্রয়োজন ৩ হাজার ৬৫৬ টন, অথচ সেপ্টেম্বরে বরাদ্দ এসেছে ২ হাজার ১৯৭ টন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৫৮৯ টন।
কুতুবপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার আবদুল আওয়াল জানান, ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি বিএডিসি ও বিসিআইসি থেকে ৪৩ মেট্রিক টন টিএসপি ও ডিএপি তুলেছেন, যা ১৫ দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। কুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জামিরুল ইসলামের অভিযোগ, অনুমোদনহীন দোকানে ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপির জন্য ২ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে, যেখানে নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে জেলার প্রায় ৩ হাজার অনিবন্ধিত খুচরা দোকান যশোরের নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার থেকে সার এনে প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করত। এখন সেগুলোর বেশির ভাগ বন্ধ, কৃষকেরা নির্ভর করছেন বিএডিসির ১১১ জন ও বিসিআইসির ৩৫ জন ডিলারের ওপর। ডিলারদের তথ্যমতে ইউরিয়া, এমওপি ও সালফেটের বরাদ্দ পর্যাপ্ত, ঘাটতি ডিএপি ও টিএসপিতে।
কৃষকের ধারণা আর কৃষি বিভাগের সুপারিশের মধ্যেও বড় ফারাক আছে। গাংনীর কৃষক হামেদ মিয়া বলেন, টমেটোতে বিঘাপ্রতি ৪০০ কেজি টিএসপি লাগে, অথচ কর্মকর্তারা ৩০ কেজি দিতে বলেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনের বেশি সার দিলে উৎপাদন খরচ বাড়ে, মাটিরও ক্ষতি হতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, মাঠের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় সরবরাহ ও বিতরণ দেখা হচ্ছে এবং সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় জানান, বরাদ্দ, সরবরাহ ও ডিলার পর্যায়ের বিতরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর মেহেরপুর প্রতিনিধি মো. আবু সাইদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)