শুধু প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকের আয় বাড়ানো কঠিন, তাই ঔষধি গাছের চাষ গ্রামের কৃষকের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দিতে পারে। জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক লেখায় এমন যুক্তি তুলে ধরেছেন ইডেন মহিলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদা তাসমিহ। মতামতটি লেখকের নিজস্ব।
লেখকের মতে, দেশে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ও চাষযোগ্য বহু ঔষধি উদ্ভিদ আছে। তুলসি, থানকুনি, অ্যালোভেরা, নিম, কালোজিরা, হলুদ ও আদা মানুষের কাছে বহুদিনের পরিচিত। এগুলো বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি বা অন্য ফসলের পাশে চাষ করা যায়, ফলে মূল ফসল না ছেড়েও কৃষক বাড়তি আয় করতে পারেন।
তিনি লিখেছেন, সম্ভাবনা শুধু চাষেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি ঔষধি গাছ জমি থেকে বাজারে পৌঁছাতে সংগ্রহ, শুকানো, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেট করা ও বিক্রির মতো অনেক ধাপ পার হয়। এসব কাজে প্যাকেজিং কর্মী, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গ্রামের নারীদের জন্য এ খাতে বিশেষ সুযোগ দেখছেন লেখক। বাড়ির পাশে অল্প জায়গায় চাষ, চারা উৎপাদন, উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ ঘরে বসেই করা যায়। দেশের ওষুধ ও হারবাল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের চাহিদা আছে; তাদের সঙ্গে কৃষকের কার্যকর বাজার সংযোগ গড়ে উঠলে একটি নির্ভরযোগ্য বাজার তৈরি হতে পারে।
তবে বাধাও কম নয়। লেখকের ভাষায়, অনেক কৃষক ঔষধি উদ্ভিদের সঠিক চাষ পদ্ধতি, বাজারের চাহিদা ও দাম সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। মানসম্মত চারা পাওয়া, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ন্যায্য দামে বিক্রিতেও সমস্যা আছে। ভালো বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শুধু চাষে উৎসাহ দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল না-ও আসতে পারে।
সমাধান হিসেবে তিনি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক চাষ ও বাজার বিষয়ে সঠিক তথ্য, স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণকেন্দ্র এবং বিক্রেতা, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গ্রামে ঔষধি চাষকে ঘিরে ছোট শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে। রপ্তানির সম্ভাবনার জন্য উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহে জোর দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
ছবি: Challiyan at Malayalam Wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)