মুরগির খাদ্য, ওষুধ ও বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পোলট্রি খামারিরা জটিল সমস্যায় পড়েছেন এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু খামার বন্ধ হয়ে গেছে। দেশ রূপান্তরের মতলব প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেয়ারের বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা; ডিমের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেকে ঋণে জর্জরিত হয়ে পেশা বদলেছেন।
খামারিদের অভিযোগ, খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে, সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট; বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচের চাপ সামলে লাভ হচ্ছে না। ইসলামাবাদ এলাকার খামারি জাহিদ হোসেন জানান, পরিবহনসহ কোম্পানিভেদে ৫০ কেজির এক বস্তা খাদ্যের দাম এখন ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা; যে ডিম হয় তাতে খাবারের খরচ ওঠে না, অনেকে খামার বন্ধ করে দেশ ছেড়েছেন।
লুধুয়ার খামারি মইন উদ্দিন বলেন, গত ছয় মাসেই খাদ্যের দাম বস্তায় প্রায় ৪৯৫ টাকা বেড়েছে, কিন্তু মুরগি ও ডিমের দাম সে তুলনায় বাড়েনি; তাঁদের দিনে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ, যা উঠছে না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কেন্দ্রে গেলে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন মেলে না, কোম্পানি থেকে কিনতে হয় বেশি দামে বলে তাঁর অভিযোগ।
খামারি মতিনের হিসাবে, একটি লেয়ার মুরগিকে ডিম দেওয়ার উপযোগী করতে খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যায় কমপক্ষে ৭০০ টাকা লাগে; ডিম দেওয়া শুরুর পরও দিনে মুরগিপ্রতি প্রায় ৮ টাকার খাবার, অথচ প্রতিটি মুরগি প্রতিদিন ডিম দেয় না, আর রোগে মারা গেলে বড় লোকসান।
মতলব উত্তর পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাসেল দেওয়ান বলেন, বাচ্চা ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন; নিম্নমানের খাদ্য ও বাচ্চা সরবরাহের অভিযোগও আছে, সরকারি নজরদারি না বাড়লে উপজেলার পোলট্রি শিল্প বড় সংকটে পড়বে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, বাচ্চা, খাদ্য ও কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিই প্রান্তিক খামারিদের লোকসানের প্রধান কারণ; দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে লাভ নিশ্চিত হবে। যখন যে ভ্যাকসিন আসে, তা সরকারি মূল্যেই খামারিদের কাছে বিক্রি করা হয় বলে তিনি জানান।
সূত্র: দেশ রূপান্তর — প্রতিবেদন: মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি





মন্তব্য
(০)