খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ মুসলিমপাড়া গ্রামের চাষি ফোরকান উদ্দিন তাঁর আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে লেমন গ্রাস বা লেবুঘাস চাষ করছেন। পাহাড়ি জমিতে এই সুগন্ধি ঘাস এখন তাঁর আয়ের নতুন উৎস।
২০২৩ সালে ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলা থেকে টবে লাগানো ১০টি চারা কিনে শুরু করেন তিনি, প্রতিটির দাম ছিল ৫০ টাকা। শখের সেই চাষ এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। সব লেবুঘাস একসঙ্গে কাটলে প্রায় তিন টন ফলন আশা করছেন তিনি; বাজারে প্রতি কেজি তাজা লেবুঘাস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান ফোরকান।
রান্নার উপকরণ হিসেবে পরিচিত লেবুঘাস এখন ভেষজ চা, নানা পানীয়, প্রসাধনী, সাবান ও সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেখতে ধানের পাতার মতো সরু ও লম্বা, কাছে গেলেই লেবুর মতো ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
লেবুঘাসের পাশাপাশি তাঁর প্রায় পাঁচ একরের বাগানে বারি-৪, গৌরমতি, বানানা ম্যাংগো, আম্রপালি, মিয়াজাকি, ব্রুনাই কিং, বারি-১১, কাটিমন ও হাড়িভাঙাসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের আম রয়েছে।
ফোরকান জানান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীন ভ্রমণে তিনি লেবুঘাসের ব্যাপক ব্যবহার দেখেছেন। কম পরিচর্যায় উৎপাদন হয় বলে এটি লাভজনক হতে পারে, এমন ভাবনা থেকে ভবিষ্যতে প্রায় দশ একরে চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা তাঁর; প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, লেবুঘাস উষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মায় এবং পাহাড়ি এলাকার অনেক জমিতে বাগানের ফাঁকে এর চাষের সুযোগ আছে। তবে বড় পরিসরে চাষের আগে জাত, উৎপাদন খরচ, ফলন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে যথাযথ পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে সতর্ক করেন তিনি।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের খাগড়াছড়ি সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Mokkie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)