মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির উর্বরা শক্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমছে; এতে ফসল উৎপাদন কমছে এবং কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষি সময়ের মানিকগঞ্জ সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যে চলতি আমন ও আগাম সবজি মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া ১৫ হাজার ৯১৭, টিএসপি ৫ হাজার ৪৭০, ডিএপি ১২ হাজার ২০১ এবং এমওপি ৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন বরাদ্দ রয়েছে—গত বছরের চেয়ে বেশি ও পর্যাপ্ত বলে বিভাগের দাবি।
প্রান্তিক কৃষকেরা জানান, বেশি ফলনের আশায় দীর্ঘদিন বেশি সার দিয়ে আসছেন; এখন একই পরিমাণ সারে আগের ফলন মিলছে না, তাই সঠিক মাত্রা না জেনে কেউ কেউ আরও বেশি দিচ্ছেন। জৈবসারের ব্যবহার কমে যাওয়ায় মাটির স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গাজীপাড়ার কৃষক সাগর গাজী বলেন, আগাম সবজিতে সার বেশি লাগে এবং বর্ষায় ঘন ঘন বৃষ্টিতে সার ধুয়ে যাওয়ায় কয়েক দফায় দিতে হয়। একই এলাকার মিশুক গাজী বলেন, ছয় বছর আগে ৫০০ শতাংশ জমিতে প্রায় ১০ মণ সার লাগত, এখন প্রায় ১২ মণ—একই জমিতে বারবার ফসল করায় চাহিদা বাড়ছে। কয়েকজন কৃষক কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত দামের বেশিতে ও নিম্নমানের সার বিক্রির অভিযোগও করেন।
আটিগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জেরিন বলেন, জমিতে জৈব পদার্থ ৫ থেকে ৭ শতাংশ থাকার কথা, অথচ অনেক জমিতে তা ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে; জৈবসার কমায় উর্বরতা কমছে, কৃষকেরা বেশি রাসায়নিক সার দিচ্ছেন, চাহিদা ও উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি গবেষক বিল্লাল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সারে মাটির উপকারী অণুজীব কমে যাচ্ছে; মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈবসারে জোর দিতে হবে এবং সার ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করা জরুরি, নইলে ফসল উৎপাদনে মার খাবেন কৃষক।
প্রতিবেদন: মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)