ভারতের মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার সাকরি তালুকে এবারের খরা বৃষ্টি না আসার গল্প নয়। মৌসুমের শুরুতে সময়মতো বৃষ্টি বাম্পার ফলনের আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু ফসলে যখন পানির সবচেয়ে দরকার, তখনই বৃষ্টি থেমে যায়। গত সপ্তাহে রাজ্য সরকার ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে; ক্ষতিগ্রস্ত ৩২টি জেলার মধ্যে ধুলের চারটি তালুকই তালিকায়।
সরকারি হিসাবে রাজ্যে গড়ে ১৮ শতাংশ বৃষ্টি কম হলেও সাকরিতে মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের কাছাকাছি ছিল। সমস্যা দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের। ১ জুন থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ১০২ দিনের মধ্যে ৬৭ দিন এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি, যার মধ্যে টানা ২২ দিন ছিল পুরোপুরি শুকনো। খরিফ ফসল শুকিয়ে গেছে, মাটিতে আর্দ্রতা না থাকায় রবি ফসল বোনারও উপায় নেই।
খোরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক নিম্বাবাই ব্রাহ্মণে জানান, তাঁর দুই একর জমিতে চিনাবাদাম, তুলা ও বাজরা ছিল। চিনাবাদামে দানা বাঁধার মুখে বৃষ্টি থেমে যায়; অপুষ্ট গাছ মানুষ তো দূরের কথা, গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও কাজে আসছে না। বয়স্ক কৃষকেরা বলছেন, এ সংকট মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৭১-৭২ সালের ঐতিহাসিক খরা; তবে এবার কষ্ট বেশি, কারণ শুরুর বৃষ্টি দেখে তাঁরা সব সঞ্চয় জমিতে ঢেলেছিলেন।
সাকরি ও আশপাশের বেশির ভাগ কৃষক ভিল, কোকনা, গামিত, নায়েকড়া ও পারধি জনগোষ্ঠীর। বছরের পর বছর বনভূমিতে চাষ করলেও অনেকের বনাধিকারের দাবি এখনো ঝুলে আছে, ফলে সরকারি ত্রাণ বা ক্ষতিপূরণ তাঁদের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
খরা ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী খরাকবলিত এলাকায় ভূমি রাজস্ব মওকুফ, কৃষিঋণ পুনর্গঠন ও ঋণ আদায়ে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পরই প্রকৃত আর্থিক সহায়তা আসবে। কৃষকেরা বলছেন, খরিফ ও রবি দুই মৌসুমের আয় বন্ধ হওয়ায় তাঁরা ঋণের জালে জড়াচ্ছেন। জলগাঁও জেলার ৭২ বছর বয়সী কৃষক শালিগ্রাম গায়কোয়াড় অল্প নলকূপ ও কুয়ার পানিতে পেঁয়াজ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু নামতে থাকা পানির স্তর নতুন শঙ্কা তৈরি করছে।
প্রতিবেদনটি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা





মন্তব্য
(০)