টানা শুষ্ক আবহাওয়ায় দাঁড়ানো ফসলের ক্ষতির পর ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য তাদের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিতে, অর্থাৎ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় খরা ঘোষণা করেছে এবং অবিলম্বে ফসলের ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে খবরটি দিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
বৃষ্টিঘাটতির এলাকা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস খরার প্রজ্ঞাপন দেওয়ার কথা বলার দুই দিন পর এ ঘোষণা এল। সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, কৃষি কমিশনারের প্রতিবেদনে জুন থেকেই ২৬৫টি তালুকে খরার মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্ষায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি ছাড়া অন্তত ২১ দিনের টানা শুষ্ক সময় থাকলে যে ‘ট্রিগার ১’ প্রযোজ্য হয়, এসব এলাকায় তা মিলেছে।
১ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে বৃষ্টি হয়েছে ৭৫৫.৯ মিলিমিটার, স্বাভাবিক ৯৩২.৩ মিলিমিটার; ঘাটতি ১৮.৮ শতাংশ। মারাঠওয়াড়ার ধারাশিবসহ ছয় জেলা নিয়ে গঠিত ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে ৪২৪.৫ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিক ৬১৩.১; ঘাটতি ৩০.৮ শতাংশ। পুনে ও নাশিক বিভাগে ঘাটতি প্রায় ৩০ শতাংশ, অমরাবতী ও নাগপুরে প্রায় ২৭ শতাংশ, কোঙ্কণে ৬.৩ শতাংশ। অমরাবতী, সোলাপুর ও লাতুরসহ অন্তত ছয় জেলায় ঘাটতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। প্রতিবেদনে এই ঘাটতিকে এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
জেলা কালেক্টরদের অবিলম্বে পঞ্চনামার মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি নিরূপণ শুরু করতে বলা হয়েছে; জিপিএস স্থানাঙ্কসহ ছবি তুলে ফসলের অবস্থা নথিভুক্ত করে কৃষি কমিশনারের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। নিরূপণ শেষে আলাদা সরকারি প্রস্তাবে আর্থিক সহায়তার অঙ্ক জানানো হবে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে ভূমি রাজস্ব মওকুফ, ফসল ঋণ পুনর্গঠন এবং কৃষিসংক্রান্ত ঋণ আদায় স্থগিত রাখা।
ওয়াশিম জেলার কারাঞ্জা, মঙ্গরুলপির ও মালেগাঁও তালুকের খেত ঘুরে দেখেছেন ফড়নবিস; সেখানে সয়াবিন ও অড়হর ডালের বড় ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কোথাও পানি নেই, ফসল শুকিয়ে গেছে, বিশেষ করে সয়াবিন; সামনে পশুখাদ্য ও খাবার পানির সংকটের আশঙ্কাও করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শুধু ঋণ সুবিধা যথেষ্ট নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা, খাদ্যশস্য ও রবি মৌসুমের সেচে সহায়তা দেওয়া হবে, পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং দিওয়ালির আগেই সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অজয় জোসেফ।
ছবি: Suhasajgaonkar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Financial Express Agriculture





মন্তব্য
(০)