টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে এ সপ্তাহের মাত্র ১০ মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে কয়েক হাজার বিঘা জমির কলা ও পেঁপের বাগান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ঝড়ের পরদিন উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় ৮০ হেক্টরের ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য দিয়েছিল; মাঠের হিসাব এগোনোর পর ক্ষতির অঙ্ক অনেক বড় দাঁড়াচ্ছে। শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামে ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় ফলন্ত কলাগাছের মাঝখান ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। শোলাকুড়ি ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, কোনো জমিতেই আর খাড়া গাছ নেই।
গাবগাইছা গ্রামের আবেদ আলীর ১ হাজার ৭০০ কলাগাছ ভেঙে পড়েছে, ক্ষতি প্রায় ৮ লাখ টাকা বলে তাঁর ধারণা। একই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ৭ হাজার কলাগাছ আর ৩ হাজার পেঁপেগাছ ভেঙেছে, তাঁর হিসাবে ক্ষতি প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। জিয়াউল হকের ৫০ বিঘার কলা-পেঁপে বাগানে ক্ষতি প্রায় এক কোটি টাকা বলে তিনি মনে করছেন। হরিণধরা গ্রামের নূর মুহাম্মদের দুই বিঘার পেঁপে আর পাঁচ বিঘার লাউ পুরো নষ্ট হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, ধারদেনা আর চড়া সুদের ঋণে এই চাষ করেছিলেন; কয়েক মিনিটে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ শোধের পথ দেখছেন না। দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন আর সুদমুক্ত ঋণ না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম জানান, ঝড়ের পর থেকে কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ঝড়ে প্রায় ৭০০ কৃষকের কলা, পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে; কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে, সরকারি সহায়তা এলে তা তাঁদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলার মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধির।
ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); কলাবাগানের প্রতীকী ছবি
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)