বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই আবার দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী ২৯ অক্টোবর এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি হবে, যেখানে বোতলজাতকরণ, ডিস্ট্রিবিউশন ও খুচরা বিক্রির চার্জ বা মুনাফা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করে; সেপ্টেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। একই সঙ্গে যানবাহনের অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে হয় ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ঠিক হয় ১ হাজার ৯১৩ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ২৯৬ টাকা আর ৪৫ কেজির ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা।
নতুন প্রস্তাবে কোম্পানিগুলো বোতলজাতকরণ চার্জ কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১০ টাকা করার কথা বলেছে। ডিস্ট্রিবিউটররা আলাদাভাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারে তাঁদের চার্জ ৫০ থেকে ১৫০ টাকা আর খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ থেকে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। গণশুনানি ছাড়া এসব চার্জ বাড়ানোর এখতিয়ার বিইআরসির নেই।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, 'শুনানি হলেই যে দাম বাড়বে, বিষয়টা এমন নয়। তাদের দাবিগুলো, যুক্তিগুলো আমরা শুনবো।'
এর আগে ১২ অক্টোবর হয়রানির প্রতিবাদে দুই দিন সারা দেশে গ্যাসের দোকান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি; ১৪ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক এবং বিইআরসির শুনানির ঘোষণার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়। সমিতির সভাপতি সেলিম খানের অভিযোগ, বড় পাঁচটি কোম্পানির হাতে এলপিজির বাজার জিম্মি; প্রায় তিন কোটি সিলিন্ডার এমনিতেই পড়ে আছে, আর প্রায় ১৫টি কোম্পানি নানা জটিলতায় এলসি খুলে এলপিজি আনতে পারছে না। তাঁদের দাবি, কোম্পানিগুলো যেন বিইআরসির অনুমতি ছাড়া মাসের মধ্যে দাম বদলাতে না পারে।
প্রতিবেদন: সঞ্চিতা সীতু, বাংলা ট্রিবিউন।
ছবি: এলপিজি সিলিন্ডার (প্রতীকী), Evil Monkey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)