সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৬°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

জল হারালে জীবন হারায়, মাছের ভরা বাজারে শূন্যতার গল্প

দয়াগঞ্জের ভোর। বাজারের কোণায় ভেজা মাটির গন্ধে মিশে আছে তাজা মাছের ঘ্রাণ। ডালা ভরে শোল, টাকি, মাগুর, চিংড়ি-সবই যেন গ্রামবাংলার স্রোতভরা দিনের স্মৃতি বয়ে এনেছে। মানুষ ভিড় করছে, দরদাম চলছে, কেউ কেউ চোখ বুলিয়ে খুঁজছে 'দেশি মাছ'-যার স্বাদে থাকে শৈশবের নদী, বিলের কাদা, গ্রামের রোদ। কিন্তু এই ভরা বাজ

দয়াগঞ্জের ভোর। বাজারের কোণায় ভেজা মাটির গন্ধে মিশে আছে তাজা মাছের ঘ্রাণ। ডালা ভরে শোল, টাকি, মাগুর, চিংড়ি-সবই যেন গ্রামবাংলার স্রোতভরা দিনের স্মৃতি বয়ে এনেছে। মানুষ ভিড় করছে, দরদাম চলছে, কেউ কেউ চোখ বুলিয়ে খুঁজছে 'দেশি মাছ'-যার স্বাদে থাকে শৈশবের নদী, বিলের কাদা, গ্রামের রোদ। কিন্তু এই ভরা বাজারের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক শূন্যতা। কারণ এই মাছ এসেছে এমন সব জলাশয় থেকে, যেগুলো এখন শুকিয়ে গেছে-যেখানে পানি নেই, স্রোত নেই, কেবল ফেটে যাওয়া কাদামাটি আর নিঃশব্দ মৃত্যু।

বর্ষার পরে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার একটু ভিন্ন-কারণ এই মাছগুলো এসেছে শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল-নদী-নালা থেকে, শহরের বাজারে এনে দিয়েছে গ্রামীণ জীবনের রেশ।

পানি কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট জলাশয়ে মাছ ধরা এখন অনেক সহজ। যেসব খাল একসময় স্রোতের গানে মুখর ছিল, আজ সেখানে কেবল পলির স্তর, শুকনো কাদা আর নিচু গর্তে আটকে পড়া মাছ। স্থানীয় জেলেরা সেই গর্তেই ফাঁদ পেতে, জাল টেনে, ডালা ভরে তুলছেন মাছ। একসময় এই মাছ ছিল তাদের সংসারের আহার, এখন তা শহুরে চাহিদা মেটানোর পণ্য।

রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর কিংবা মাদারীপুর-এসব অঞ্চলের গ্রামীণ বাজারে এখন ছোট-বড় নানা জাতের মাছ ধরা পড়ছে: শোল, টাকি, মাগুর, কৈ, শিং, চিংড়ি, এমনকি ছোট পুঁটিও। কৃষিকাজের ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ জাল নিয়ে নেমেছেন শুকিয়ে যাওয়া বিলের কাদা মাটিতে।

তাদের সেই মাছ এখন দয়াগঞ্জ, কারওয়ানবাজার, শ্যামবাজার কিংবা মিরপুরের হাটে জমজমাট বেচাকেনায় রূপ নিচ্ছে। ভোর থেকেই ট্রাক, ভ্যান, ঠেলাগাড়িতে ভরে আসছে মাছ। শহুরে ক্রেতারা ভিড় করছেন-কারণ এই মাছের স্বাদ অন্যরকম, প্রাকৃতিক, দেশি, নদীর ঘ্রাণ মিশে থাকে তাতে।

দয়াগঞ্জের বাজারে এখন টাটকা মাছের গন্ধ, হাঁকডাক আর দরদামের শব্দ। ক্রেতারা উৎসাহী-কেউ বলছে, 'এই রুইটা নদীর না বিলের ' কেউ আবার চোখ মেলে খুঁজছে শোল বা চিংড়ি। শহরের মানুষ আনন্দে এই মাছ কিনছে, কিন্তু যারা তা ধরছে-তাদের চোখে অন্য বাস্তবতা। জল কমে যাওয়ায় তারা জানে, আগামী বছর হয়তো এই পেশা থাকবে না। জেলেদের মুখে হাসি আছে, কিন্তু সেই হাসির ভেতরে লুকিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।

প্রতিটি শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল শুধু পানি নয়, হারায় জীবন। স্থানীয়ভাবে পানি সংরক্ষণ, খাল পুনঃখনন, এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা এসব উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। সরকার ও নাগরিক সমাজ একত্রে না এলে ভবিষ্যতে 'দেশি মাছ' কেবল স্মৃতির স্বাদে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

দয়াগঞ্জের সকালবেলার বাজারের গন্ধে, কাদা মাটির রঙে, জেলের কণ্ঠে এখনো লেগে আছে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র-জল, মাছ আর জীবনের মিলেমিশে থাকা সৌন্দর্য। কিন্তু সেই জল যদি হারিয়ে যায়, তখন কি শুধু মাছ, নাকি হারিয়ে যাবে এক টুকরো সংস্কৃতিও?

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

পদ্মা-যমুনার মোহনায় জেলের জালে ৭২ কেজির তিন মাছ, বিক্রি প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার কাছে পদ্মা-যমুনার মোহনায় জেলে সেকেন হালদারের জালে ধরা পড়েছে ২৫ ও ২২ কেজির দুটি কাতল এবং ২৫ কেজির একটি বাঘাইড়; নিলাম আর পরের হাতবদলে তিনটি মাছের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এগ্রিকেয়ার২৪৩ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

দিরাইয়ের হাওরে কমছে দেশীয় মাছ, কারণ বলছেন কীটনাশক আর বিলে বিষ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের হাওর, খাল ও বিলে সারাদিন জাল ফেলেও দেশীয় মাছ মিলছে না; স্থানীয়রা ধানখেতে রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, ইজারা দেওয়া বিলে বিষ প্রয়োগ ও প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়াকে দায়ী করছেন।

কৃষি সময়৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কিশোরগঞ্জের মেঘনা বিলে তিন ফসলি জমিতে মাছের ঘের, মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

কিশোরগঞ্জ সদরের মেঘনা বিলে তিন ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি ও সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা; বাঁধে পাঁচ বিলের পানি আটকে আমন-বোরো ডোবার আশঙ্কা।

কৃষি সময়৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)