চরানোর আবর্তনে একটি সস্তা বদলেই সেচহীন খামারের মাটি বৃষ্টির পানি অনেক বেশি শুষে নিতে পারে—নিউজিল্যান্ডের কৃষক-চালিত এক প্রকল্পের এই ফল। বিফ + ল্যাম্ব নিউজিল্যান্ডের (BLNZ) অর্থায়নে ও কোরাম সেন্সের (Quorum Sense) নেতৃত্বে ‘ক্যাচ দ্য রেইন’ প্রকল্পে চারণভূমির বিশ্রামকাল বাড়ানোয় তিনটি খামারে নিয়ন্ত্রণ অংশের তুলনায় নয় মাসের মধ্যে পানি ঢোকার হার গড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সেচহীন ভেড়া ও গরুর খামারে বৃষ্টিই প্রধান সম্পদ; কিন্তু মাটি শুষে নিতে না পারলে বৃষ্টি গড়িয়ে চলে যায়, মাটির আর্দ্রতা বা ঘাস বাড়ে না। দক্ষিণ দ্বীপ ও উত্তর দ্বীপের নিচের অংশের ৬০-এর বেশি কৃষক কর্মশালা, সাক্ষাৎকার ও খেত-পরীক্ষায় যুক্ত ছিলেন; ১১ জন নিজের জমিতে পানি ঢোকানো বাড়ানোর বাস্তব, কম খরচের উপায় পরীক্ষা করেন।
তিনটি পদ্ধতি পরীক্ষা হয়: দীর্ঘ চারণ-বিরতি, মাটির জীবাণু-জীবন সহায়ক বায়োস্টিমুল্যান্ট আর বৈচিত্র্যময় ঘাসের মিশ্রণ। কৃষকেরা সাধারণ ৩০ দিনের আবর্তনের সঙ্গে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বেশি বিশ্রামকাল তুলনা করেন—সবচেয়ে জোরালো ফল এসেছে দীর্ঘ বিশ্রামেই, যা পুঁজি খরচ ছাড়াই বর্তমান ব্যবস্থায় আনা যায়। বিএলএনজেডের বিজ্ঞান ও গবেষণা প্রধান ড. সুজি কিলিং (Suzi Keeling) বলেন, ফারাক গড়তে কৃষকের বড় বিনিয়োগ লাগে না।
বায়োমারিনাসের মাছের হাইড্রোলাইসেট ব্যবহার করা বায়োস্টিমুল্যান্ট পরীক্ষায় তিনটি খামারে নয় মাসে পানি ঢোকা বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, মাটি বিশ্লেষণে ছত্রাকের সংখ্যা ও সক্রিয়তাও বেড়েছে। বৈচিত্র্যময় ঘাসের পরীক্ষার ফল অস্পষ্ট: ঘাস নতুন করে বসানোর স্বল্পমেয়াদি ধাক্কায় মাটির গঠন ভাঙায় পরীক্ষাকালে পানি ঢোকা কমেছে; দীর্ঘমেয়াদি সুফল এখনো মূল্যায়নের অপেক্ষায়।
ব্যাংকস পেনিনসুলার কৃষক উইল জনস (Will Johns) বলেন, প্রকল্পটি মাটিকে একেবারে অন্যভাবে দেখতে শিখিয়েছে—চোখে দেখে মাটি মূল্যায়ন আর মাটির গঠনের সঙ্গে পানি ঢোকার সম্পর্ক। প্রকল্পের বিজ্ঞান-প্রধান ড. গোয়েন গ্রেলে (Gwen Grelet) বলেন, সাধারণ ব্যবস্থাপনায় এক বছরের কমেই মাটির কার্যকারিতায় মাপার মতো বদল ধরা পড়া উৎসাহব্যঞ্জক; তবে ছোট, কৃষক-চালিত এই পরীক্ষার ফল সাধারণীকরণে সাবধান থাকতে হবে, আরও খামার, মাটি ও জলবায়ুতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জোরালো কারণ এটি।
সূত্র: Farmers Weekly NZ

মন্তব্য
(০)