ফুল আসার আগে তাপপ্রবাহ হলে গমের ফলন সবচেয়ে বেশি কমে, তবে সেই আগাম তাপই মৌসুমের পরের দিকের আরেক দফা তাপপ্রবাহ সামলাতে ফসলকে প্রস্তুত করে তুলতে পারে। স্পেনের কাতালোনিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ইয়েদার (লেইদা) মাঠ গবেষণার এই ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল বোটানিতে।
দুই মৌসুম ধরে গবেষকেরা ফলন গঠনের ভিন্ন কৌশলের দুটি আধুনিক গমের জাতের ওপর স্বচ্ছ তাঁবু দিয়ে দিনের তাপমাত্রা বাড়ান। ফুল আসার আগে ও পরে তাপের প্রভাব তুলনা করা হয় এমন এক মানদণ্ডে, যেখানে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুটি জাতের সাড়া ছিল একই রকম।
ফুল আসার আগের তাপে ফলনের ক্ষতি পরের তাপের চেয়ে বেশি হয়েছে, আর ক্ষতির ধরনও ভিন্ন: আগাম তাপে দানার সংখ্যা কমে, পরের তাপে কমে দানার ওজন।
যে গাছ ফুল আসার আগে ও পরে দুবারই তাপ পেয়েছে, সেগুলো শুধু পরে তাপ পাওয়া গাছের চেয়ে দ্বিতীয় দফায় কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; একে ‘প্রাইমিং’ বা প্রস্তুতকরণ প্রভাব বলা হচ্ছে, যদিও আগাম তাপের কারণে দানার সংখ্যা কমার দাম দিতে হয়েছে। সহলেখক গুস্তাভো স্লাফার বলেন, "আমাদের জানামতে, মাঠের ফসলে পরপর তাপপ্রবাহের এমন বিপরীতমুখী মিথস্ক্রিয়ার এটাই প্রথম প্রমাণ।"
স্লাফারের মতে, দানার সংখ্যা যখন ঠিক হয়, সেই ফুল আসার সময়টায় গমকে সুরক্ষা দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর ফলনের পূর্বাভাসে পরপর তাপপ্রবাহকে আলাদা নয়, একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। যব, ওট ও রাইয়েও এমন সাড়া দেখা যেতে পারে, তবে তাপমাত্রার সীমা ভিন্ন হবে।
স্লাফার বলেন, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফসল হওয়ায় গম সাধারণত ভুট্টা বা ধানের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফসলের চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে কম খাপ খাওয়াতে পারে। গবেষণার অন্য লেখক ব্রেনো বিসেগো ও রোক্সানা সাভিন।
সূত্র: Seed World Europe




মন্তব্য
(০)