সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবুজ প্রকল্প ও টেকসই কৃষিতে ব্যাংকঋণ কমেছে

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো আগের প্রান্তিকের চেয়ে সবুজ প্রকল্প ও টেকসই কৃষিতে কম ঋণ দিয়েছে, যদিও মোট টেকসই অর্থায়ন বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবুজ প্রকল্প ও টেকসই কৃষিতে ব্যাংকঋণ কমেছে
এগ্রোবিজ

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো আগের প্রান্তিকের তুলনায় সবুজ বা পরিবেশবান্ধব প্রকল্প এবং টেকসই কৃষিখাতে কম ঋণ দিয়েছে। অথচ একই সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই প্রকল্পে তাদের মোট ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রান্তিকের টেকসই অর্থায়ন-সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই জাগো নিউজ প্রতিবেদনটি নিয়ে খবর প্রকাশ করে, সঙ্গে একজন উদ্যোক্তা, একজন ব্যাংক খাত বিশ্লেষক ও একজন অর্থনীতিবিদের মতামত তুলে ধরে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে যা দেখা গেছে


প্রতিবেদনটির নাম 'কোয়ার্টারলি রিভিউ রিপোর্ট অন সাসটেইনেবল ফিন্যান্স অব ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬'। এটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের এ প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপ, পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং ওই প্রান্তিকে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সবুজ ও টেকসই ঋণ বিতরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রান্তিকটিতে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো মিলে টেকসই খাতে ১,০০,০৫৭.০২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো দিয়েছে ৯৭,৫৫৮.৩৭ কোটি টাকা এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২,৪৯৮.৬৫ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে একে আগের প্রান্তিকের তুলনায় বৃদ্ধি বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো টেকসই খাতে ৮১,১২৪.৫০ কোটি টাকা এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২,৬২১.১২ কোটি টাকা বিতরণ করেছিল।

সব প্রতিষ্ঠান অবশ্য এতে অংশ নেয়নি। প্রতিবেদন বলছে, ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫৬টি এবং ৩৪টি ফাইন্যান্স কোম্পানির মধ্যে ১১টির ওই প্রান্তিকে টেকসই অর্থায়ন ছিল। মোট ১০,৯৬,৫৯১ জন ঋণগ্রহীতা টেকসই অর্থায়ন পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংক থেকে ১০,৮৫,০৯১ জন এবং ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে ১১,৫০০ জন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে তাঁদের মধ্যে নারী ৬,০৪,৩৭৭ জন ও পুরুষ ৪,৯২,২১৪ জন; গ্রামের ৮,১০,৬৮১ জন এবং শহরের ২,৮৫,৯১০ জন।

মোট টেকসই অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষায় 'অন্যান্য টেকসই-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নে', ৪১,৬২৩.২৪ কোটি টাকা। এরপর টেকসই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাতে গেছে ৩৬,৫৩৭.০০ কোটি টাকা। সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল অর্থায়নে ৮,৪৭২.৫৮ কোটি, টেকসই কৃষিতে ৮,২২৭.৫১ কোটি এবং সবুজ অর্থায়নে ৫,১৯৬.৭০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। প্রতিবেদনের নিজস্ব হিসাবে অন্যান্য টেকসই-সংশ্লিষ্ট অর্থায়নের অংশ ৪১.৬০ শতাংশ, এমএসএমইর ৩৬.৫২ শতাংশ, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল অর্থায়নের ৮.৪৭ শতাংশ, টেকসই কৃষির ৮.২২ শতাংশ এবং সবুজ অর্থায়নের ৫.১৯ শতাংশ।

ঋণের বেশির ভাগ দিয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। প্রান্তিকটিতে ব্যাংকগুলোর টেকসই অর্থায়নের মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়েছে ৭৪,৪১৮.৫৯ কোটি টাকা, ইসলামি ব্যাংকগুলো ১৩,১০৬.৬৭ কোটি, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬,০৯৪.৬৩ কোটি, বিশেষায়িত ব্যাংক ২,৫৫৪.০১ কোটি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ১,৩৮৪.৪৮ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত টেকসই অর্থায়নের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪,১৫,৯৮২.৯৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে সৌরশক্তিচালিত একটি সেচপাম্প। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় সৌর সেচপাম্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবুজ পণ্য হিসেবে সবুজ অর্থায়নের আওতায় পড়ে। ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে সৌরশক্তিচালিত একটি সেচপাম্প। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় সৌর সেচপাম্প নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবুজ পণ্য হিসেবে সবুজ অর্থায়নের আওতায় পড়ে। ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সবুজ অর্থায়ন আগের প্রান্তিকের চেয়ে কম


টেকসই অর্থায়নের যে অংশ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও প্রকল্পে যায়, সেই সবুজ অর্থায়নের চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চে ব্যাংকগুলো সবুজ খাতে ৪,৬৬২.৬৬ কোটি টাকা এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ৫৩৪.০৪ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, সব মিলিয়ে ৫,১৯৬.৭০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে একে আগের প্রান্তিকের তুলনায় হ্রাস বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলো ৫,৯৯০.৮৩ কোটি এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ৯৮৯.৮৬ কোটি টাকা সবুজ অর্থায়ন করেছিল; জাগো নিউজ সেই প্রান্তিকের মোট পরিমাণ ৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনের ত্রৈমাসিক চিত্রে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোর সবুজ অর্থায়ন ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৭,৬২০.২০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চে ৭,৯২৭.২৮ কোটি, এপ্রিল-জুনে ৭,০৭০.৪৫ কোটি এবং জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৬,১১৩.০৫ কোটি টাকা। এরপর অক্টোবর-ডিসেম্বরে তা ছিল ৫,৯৯০.৮৩ কোটি এবং সর্বশেষ প্রান্তিকে ৪,৬৬২.৬৬ কোটি টাকা। একই প্রান্তিকগুলোতে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সবুজ অর্থায়ন ছিল যথাক্রমে ১,০২৫.৫০ কোটি, ৮৩৬.১৯ কোটি, ৭৭৮.৫৯ কোটি, ৬৬৩.০০ কোটি, ৯৮৯.৮৬ কোটি ও ৫৩৪.০৪ কোটি টাকা।

মোট টেকসই অর্থায়নের তুলনায় সবুজ অর্থায়নে সক্রিয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম। প্রান্তিকটিতে ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৪২টি এবং ৩৪টি ফাইন্যান্স কোম্পানির মধ্যে ১০টির সবুজ অর্থায়ন ছিল। ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সবুজ খাতে দিয়েছে ৩,৮৩৬.৫২ কোটি টাকা, ইসলামি ব্যাংক ৬৫৮.৭৮ কোটি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ১০১.৯৪ কোটি, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৩.৯১ কোটি এবং বিশেষায়িত ব্যাংক ১.৫২ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিলের হিসাবও রয়েছে। প্রান্তিকটিতে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো সবুজ অর্থায়নের ৫,০৩৮.০৯ কোটি টাকা আদায় করেছে এবং ৪১১.৬৫ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করেছে। পুরো টেকসই অর্থায়নে আদায় হয়েছে ৫২,৩৭৭.৪৬ কোটি টাকা, আর পুনঃতফসিল হয়েছে ৩,৭২৪.১২ কোটি টাকা।

টেকসই কৃষিতে ঋণ ও এর গ্রহীতা


টেকসই কৃষিখাতেও অর্থায়ন কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রান্তিকটিতে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো এ খাতে ৮,২২৭.৫১ কোটি টাকা বিতরণ করেছে; এর মধ্যে ব্যাংকগুলো ৮,১২০.৮০ কোটি এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ১০৬.৭১ কোটি টাকা। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বরে এ খাতে অর্থায়ন ছিল ১০ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা।

টাকার অঙ্কে অংশ ছোট হলেও কৃষিঋণ পৌঁছায় অনেক বেশি মানুষের কাছে। প্রতিবেদনে প্রান্তিকটিতে টেকসই কৃষি অর্থায়নের ঋণগ্রহীতা ৪,৭৭,২৬১ জন, যার মধ্যে ব্যাংকের ৪,৭৬,৮৪৬ জন এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির ৪১৫ জন। ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী টেকসই কৃষিতে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দিয়েছে ৩,২৩৪.৮০ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংক ২,৫৫২.৪৯ কোটি, ইসলামি ব্যাংক ১,৩২৯.১৯ কোটি, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৭৭৩.০৬ কোটি এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ২৩১.২৬ কোটি টাকা। প্রান্তিকটিতে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ২,৫৫৪.০১ কোটি টাকার টেকসই অর্থায়নের মধ্যে ২,৫৫২.৪৯ কোটি টাকাই গেছে টেকসই কৃষিতে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ টেকসই কৃষি অর্থায়নের স্থিতি ছিল ৬০,১৮৮.৭০ কোটি টাকা।

কোন ঋণ টেকসই কৃষি হিসেবে গণ্য হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালায় বলা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী, টেকসই কৃষিতে অর্থায়নের লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের মাধ্যমে কৃষিকে এগিয়ে নেওয়া; বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর এলাকায় সমন্বিত চাষ, মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। নীতিমালায় যেসব খাত তালিকাভুক্ত:

  • শস্য
  • মৎস্যচাষ
  • শস্য সংরক্ষণ
  • প্রাণিসম্পদ
  • দারিদ্র্য বিমোচন
  • সেচ সরঞ্জাম
  • কৃষি যন্ত্রপাতি
  • বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে স্বীকৃতি দেয় এমন অন্যান্য খাত

এর পাশাপাশি নীতিমালায় উদ্যানফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, কৃষি-বনায়ন ও মৌমাছি পালনের মতো খাতে সমন্বিত খামার ব্যবস্থায় অর্থায়নের কথা রয়েছে, যাতে খরা, বন্যা বা অন্য চরম আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হলে কৃষক সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে আয় করতে পারেন। আলাদা 'সবুজ কৃষি' শ্রেণিতে আছে কেঁচো সার ও জৈব সার উৎপাদন, জৈব চাষ, ছাদকৃষি ও উল্লম্ব চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, উপকূলীয় জলজ চাষ এবং ভাসমান ও হাইড্রোপনিক চাষ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চে প্রান্তিকের সবুজ অর্থায়ন থেকে সবুজ কৃষি পেয়েছে ২৪০.২৫ কোটি টাকা।

রাজশাহীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কেন্দ্রে ধানখেতে কাজ করছেন একজন কৃষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় টেকসই কৃষির প্রথম খাত শস্য উৎপাদন। ছবি: Tahmid Reza / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাজশাহীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কেন্দ্রে ধানখেতে কাজ করছেন একজন কৃষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় টেকসই কৃষির প্রথম খাত শস্য উৎপাদন। ছবি: Tahmid Reza / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সবুজ অর্থায়নের টাকা কোন খাতে গেছে


প্রতিবেদনে প্রান্তিকের সবুজ অর্থায়ন খাতভিত্তিক ভাগ করে দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ২,৪০৪.০৮ কোটি টাকা গেছে জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতা খাতে। এরপর সবুজ সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল অর্থায়নে ৭৭৮.৮৩ কোটি, সবুজ বা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে ৬৩৯.০৮ কোটি এবং সবুজ কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে ৪৭৭.০৬ কোটি টাকা। সবুজ কৃষি পেয়েছে ২৪০.২৫ কোটি, চক্রাকার অর্থনীতি ও ইকো-প্রকল্প ২০৬.৯৭ কোটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ১২৪.৪২ কোটি, তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ১০৯.২৬ কোটি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ৬২.০৯ কোটি এবং পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন ৪৩.৫০ কোটি টাকা।

এখনো পরিশোধ বাকি থাকা ঋণের হিসাবে চিত্রটি আরও বড়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সবুজ অর্থায়নের স্থিতি ছিল ৮১,০৫৫.৪৬ কোটি টাকা। এর সবচেয়ে বড় অংশ জ্বালানি ও সম্পদ দক্ষতায় (৩৩,৯১৯.২৮ কোটি টাকা) এবং সবুজ বা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে (১৭,৭২২.০৩ কোটি টাকা)। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থিতি ৫,৮৮৪.৫৫ কোটি টাকা। বিকল্প জ্বালানি, নীল অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলক কম অর্থায়নের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খাতে সবুজ অর্থায়ন আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে সবুজ প্রকল্পের যে উদাহরণগুলো এসেছে, অর্থাৎ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন, সবই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবুজ পণ্যের তালিকায় আছে। ২০২৩ সালের নীতিমালায় মেয়াদি ঋণের জন্য ১৪টি শিরোনামে ৯৪টি সবুজ পণ্য, প্রকল্প ও উদ্যোগের তালিকা দেওয়া হয়েছে: নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব ইট থেকে শুরু করে সবুজ কৃষি, সবুজ ভবন, নীল অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি পর্যন্ত। নবায়নযোগ্য জ্বালানির তালিকায় আছে সোলার হোম সিস্টেম, সৌর সেচপাম্প, সৌরচালিত হিমাগার, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং বায়োগ্যাস প্লান্টসহ সমন্বিত গরু পালন; তরল বর্জ্যের তালিকায় জৈব ইটিপি, জৈব ও রাসায়নিক মিশ্র ইটিপি এবং কেন্দ্রীয় ইটিপি; আর ইটের তালিকায় কম্প্রেসড ব্লক ইট, ফোম কংক্রিট ইট এবং টানেল কিলন ও হাইব্রিড হফম্যান কিলনের মতো দক্ষ ইটভাটা।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) একটি কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্টের জন্য মজুত করা গোবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালায় বায়োগ্যাস প্লান্ট সবুজ পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) একটি কমিউনিটিভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্টের জন্য মজুত করা গোবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালায় বায়োগ্যাস প্লান্ট সবুজ পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আগের বছরগুলোতে সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন


প্রতিবেদনের বার্ষিক সারণি সর্বশেষ প্রান্তিককে প্রেক্ষাপটে রাখে। সবুজ অর্থায়ন বিতরণ ছিল ২০২২ সালে ১২,২২৬.৪৬ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ১৯,৩০৪.৩১ কোটি, ২০২৪ সালে ৩০,৬৫৩.৭৮ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০,৩৬৯.২৬ কোটি টাকা। মোট মেয়াদি ঋণ বিতরণের অংশ হিসেবে এটি ছিল ওই বছরগুলোতে যথাক্রমে ৪.৯৭, ৭.২৫, ১৩.২৯ ও ১৩.৭৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চে ১২.২২ শতাংশ। টেকসই অর্থায়ন বিতরণ ছিল ২০২২ সালে ১,৩০,৭৬২.২৩ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ১,৯৭,৩৬৯.১৪ কোটি, ২০২৪ সালে ৪,৫৯,৪৮৩.৮২ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৪,৪৭,৯৮২.৬৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বিতরণের যথাক্রমে ১১.৫৯, ১৭.২৩, ৩৯.৬৬ ও ৩৫.৮৭ শতাংশ; ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ৩৪.৩৫ শতাংশ।

প্রান্তিকভিত্তিক সবুজ ঋণ কমার খবর আগেও এসেছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা ট্রিবিউন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনা উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষের ৬,৪০৮ কোটি টাকা থেকে ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর সবুজ অর্থায়ন নেমেছে ৫,৯৬৭ কোটি টাকায়, আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সবুজ অর্থায়ন ৯৯৬ কোটি থেকে বেড়ে ১,২৭১ কোটি টাকা হয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, ওই প্রান্তিকে ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৩টি এবং ৩৪টি ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টি সবুজ অর্থায়ন করেছে, আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৫৪টি ব্যাংক ও ১৬টি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিবেদনে ব্যাংকাররা এ পতনের জন্য তারল্য সংকটকে দায়ী করেন এবং বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের উল্লম্ফনের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ভালো টেকসই রেটিং পাওয়ার তাগিদ থাকতে পারে।

এক বছর পর প্রবণতা উল্টে যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চে সবুজ অর্থায়ন বিতরণ আগের বছরের একই সময়ের ৭২.৪০ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে ৮৭.৬৩ বিলিয়ন টাকা হয়েছে এবং ওই প্রান্তিকে টেকসই অর্থায়ন ১.৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম পত্রিকাটিকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার কারণেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই ও সবুজ ঋণ বাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প টেকসই কি না তা যাচাইয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্যতা পরীক্ষা করলেও কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের পরও মূল্যায়ন করে দেখা উচিত সেগুলো সত্যিই টেকসই কি না।

পরিসংখ্যানের পেছনের নিয়মকানুন


বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সালে, যখন ব্যাংকগুলোর জন্য পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ও গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করা হয়। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট ঋণ বিতরণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ সরাসরি সবুজ অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালা জারি করে এবং ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর হালনাগাদ নীতিমালা দেয়। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে সাসটেইনেবল ফিন্যান্স ইউনিট রয়েছে এবং প্রত্যেককে নিজস্ব টেকসই অর্থায়ন নীতিমালা তৈরি করতে হয়।

জাগো নিউজের মূল লেখায় বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ২০ শতাংশ টেকসই খাতে এবং মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ সবুজ প্রকল্পে বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো ছিল ২০২১ সালে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা: মেয়াদি ঋণ বিতরণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ সবুজ অর্থায়ন এবং মোট ঋণ বিতরণের ২০ শতাংশ টেকসই অর্থায়ন। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরের এক সার্কুলারে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। ২০২৫ সাল থেকে প্রতিটি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিকে আগের বছরের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক নিট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির (কর্মচারী ঋণ, শ্রেণিকৃত ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ বাদ দিয়ে) যথাক্রমে অন্যূন ৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ হারে সবুজ ও টেকসই অর্থায়নের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে। কোনো বছরের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে কম হবে না, আর লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের ক্যামেলস রেটিং ও সাসটেইনেবিলিটি রেটিং মূল্যায়নে বিবেচনা করা হবে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের আগস্টে জানায়, ২০২৫ সালের জন্য ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সবুজ অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ৬৭৮.২১ বিলিয়ন টাকা এবং টেকসই অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ৫.৪৩ ট্রিলিয়ন টাকা।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে উল্লিখিত টেকসই (সাসটেইনেবিলিটি) রেটিং বছরে একবার করা হয়। ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুযায়ী এতে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে চারটি উপাদানে মূল্যায়ন করা হয়: টেকসই অর্থায়ন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, সবুজ পুনঃঅর্থায়ন এবং মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমের টেকসইতা; শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন শ্রেণিবিন্যাস (ট্যাক্সোনমি) যোগ্য কার্যক্রম চিহ্নিত, অর্থায়ন ও প্রতিবেদন করার একটি অভিন্ন ভিত্তি দেয় এবং 'গ্রিনওয়াশিং' বা লোকদেখানো সবুজ দাবির ঝুঁকি কমায়।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও ঝুঁকি যাচাই


লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল পরিচালনা করে, যা থেকে সবুজ প্রকল্পের জন্য ব্যাংকগুলো কম খরচে অর্থ পায়। পরিবেশবান্ধব পণ্যের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম শুরু হয় ২০০৯ সালে, সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ও ইটিপির জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। পরে তা ৪ বিলিয়ন টাকায় এবং ২০২৩ সালে ১০ বিলিয়ন টাকায় উন্নীত করা হয়, পণ্যের তালিকা দাঁড়ায় ১১টি শ্রেণিতে ৭০টিতে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ তহবিল থেকে মোট ১,৮৪৫.৫৯ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে; ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চে বিতরণ হয়েছে ৫৩.৪০ কোটি টাকা, পুরোটাই শিল্পে বয়লারসহ এনার্জি অডিটর সনদপ্রাপ্ত যন্ত্রপাতি স্থাপনে।

রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও চামড়াশিল্পের জন্য ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) চালু হয়। পরে এটি সব উৎপাদনকারী-রপ্তানিকারকের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং এতে আরও ২০০ মিলিয়ন ইউরো যোগ হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যোগ হওয়া ৫০ বিলিয়ন টাকার স্থানীয় মুদ্রার তহবিল থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৫টি ব্যাংকের ৯৬ জন গ্রাহককে ২,৫২৭.২৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে সর্বশেষ প্রান্তিকে ৬টি ব্যাংকের ৯ জন গ্রাহক পেয়েছেন ২৫৯.৮০ কোটি টাকা। রপ্তানিশিল্পের জন্য ১০ বিলিয়ন টাকার প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন তহবিল (টিডিএফ) থেকে একই তারিখ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ১,১০৪.৬৯ কোটি টাকা, যার ১৮.৯৫ কোটি টাকা প্রান্তিকটিতে দুটি প্রকল্পে গেছে।

ঋণগ্রহীতার পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকিও যাচাই করে ব্যাংকগুলো। প্রান্তিকটিতে ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৮টি এবং ৩৪টি ফাইন্যান্স কোম্পানির মধ্যে ১০টি পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি রেটিং করেছে; ২,১১,৯৫৩টি প্রকল্পের রেটিং হয়েছে এবং রেটিং করা ১,৯৫,৫৫৯টি প্রকল্পে ১,৭৮,৯৯৪.৮০ কোটি টাকা অর্থায়ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলও রাখে; প্রতিবেদন বলছে, প্রান্তিকটিতে এ তহবিলের ৪.৯৫ কোটি টাকা ব্যবহার হয়েছে।

ঋণ কমা নিয়ে উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকদের মত


আলভি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহিরুল ইসলাম জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, 'টেকসই অর্থায়ন বাড়ার বিষয়টি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বাস্তবে পরিবেশবান্ধব বা সবুজ প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাদের এখনো তুলনামূলক বেশি খরচ, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া ও অর্থায়ন পাওয়ার জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে অনেক উদ্যোক্তা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সবুজ বিনিয়োগে এগোতে পারেন না।'

'সবুজ প্রকল্পে ঋণ কমে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, বিদ্যমান নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন', বলেন তিনি। তাঁর মতে, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, স্বল্প সুদের ঋণ ও দ্রুত ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা গেলে পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে; এতে দেশের জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের প্রতিযোগিতাও শক্তিশালী হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এবং ব্যাংক খাত বিশ্লেষক হেলাল আহমেদ জনি জাগো নিউজকে বলেন, 'টেকসই অর্থায়ন বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও শুধু ঋণের পরিমাণ বাড়লেই হবে না, অর্থায়ন যেন প্রকৃত পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।' একই সময়ে সবুজ প্রকল্পে অর্থায়ন কমে যাওয়াকে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোর জন্য আরও নীতিগত সহায়তা, প্রণোদনা ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।'

ভুয়া সবুজ প্রকল্প নিয়ে সতর্কতা


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস জাগো নিউজকে বলেন, টেকসই ও সবুজ প্রকল্পে ব্যাংকঋণ বিতরণ 'নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ'। তবে 'সবুজ প্রকল্প' নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ভুয়া বা কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সেজন্য যাচাই-বাছাই ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কমায়, ফলে ব্যবসার টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হওয়ায় এসব প্রকল্প সহজে ঋণ সুবিধাও পায়।'

ড. বায়েস আরও বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান সামান্য পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বা কেবল প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের সবুজ প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে বড় অঙ্কের সহজ ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করে; তাই প্রকৃত পরিবেশবান্ধব প্রকল্প এবং ভুয়া বা নামমাত্র সবুজ প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত, যাচাই ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায়ও এ ধরনের সুরক্ষার কথা আছে: প্রতিটি ঋণপ্রস্তাব প্রথমে বর্জনীয় কার্যক্রমের তালিকা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক যথাযথ যাচাইয়ের মানদণ্ডে পরীক্ষা করতে হয়, আর ঋণ দেওয়ার পরও নিয়মিত প্রতিবেদন ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে গ্রাহক শর্ত মানছেন কি না তা তদারক করার কথা ব্যাংকগুলোর।

ছবি: Abu Nayeem / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ ব্যাংক (টেকসই অর্থায়নবিষয়ক ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন, জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬; সাসটেইনেবল ফিন্যান্স নীতিমালা ২০২৩; এসএফডি সার্কুলার নং ০২, ৬ নভেম্বর ২০২৪), দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ঢাকা ট্রিবিউন

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

নিষেধাজ্ঞা শেষে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাটে ব্যস্ততা, প্রথম যাত্রায় মাছ কম

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলার ফিরতে শুরু করায় ফিশারিঘাট আবার সরব, তবে প্রথম দিনের আহরণে অনেক জেলে ও ট্রলারমালিক খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কায়।

বাংলা নিউজ ২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
দৈনন্দিন

এইচএসসির ফলের দিনে ঢাকার মিষ্টির দোকানে ক্রেতা নেই, বাড়তি মিষ্টি নিয়ে বিপাকে দোকানিরা

ফল প্রকাশের দিনে সাধারণত যে ভিড় হয়, পাসের হার কম আর বৃষ্টিতে এবার তা দেখা যায়নি; অনেক দোকানে দুপুর পর্যন্ত এক কেজি মিষ্টিও বিক্রি হয়নি।

বাংলা নিউজ ২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

নাটোরে দিনব্যাপী গুড় উৎসব, ১৬ স্টলে ঐতিহ্যবাহী গুড় ও দেশীয় পণ্য

উত্তরবঙ্গ ই-কমার্স ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নাটোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে গুড় উৎসব হয়েছে; গুড় উৎপাদক ও বিক্রেতা উদ্যোক্তারা ক্রেতার সামনে পণ্য তুলে ধরেন।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)