বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলু ক্রেতাদের একটি পেপসিকো (PepsiCo) পানির সংকট, চরম আবহাওয়া, উপকরণের খরচ ও বদলে যাওয়া চাষের পরিবেশ থেকে আলুর জোগান রক্ষায় তার কৃষক নেটওয়ার্কের সম্মিলিত জ্ঞান কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কৃষি ক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রব মায়ার্স এগনেভিগেটরকে এ কথা বলেছেন। লেইস ও ডরিটোসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নিজে আলু চাষ করে না; তার সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রায় তিন লাখ কৃষক যুক্ত।
সম্প্রতি জার্মানির হ্যানোভারে নিজেদের গ্লোবাল অ্যাগ্রো ইউনিভার্সিটিতে ৩৫টির বেশি দেশের ১৪০ জনের বেশি চাষি, সরবরাহকারী, কৃষিবিদ ও বিশেষজ্ঞকে এক করেছে পেপসিকো। ইউরোপের আলুচাষিরা দফায় দফায় খরা, শ্রমিক সংকট এবং জ্বালানি ও উপকরণের বাড়তি দামে ভুগছেন। মায়ার্সের মতে, এসব সমস্যার সহজ উত্তর নেই, তাই বীজ ও রোপণ থেকে শুরু করে তোলা, সংরক্ষণ ও পরিবহন পর্যন্ত মৌলিক কাজগুলো ঠিকঠাক করাই ভরসা। চাষিরা বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং কম পানির সেচ প্রযুক্তিতে।
ফ্রিটো-লে অ্যাগ নামের জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে তথ্য সহজে খুঁজে পেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করার পাশাপাশি প্রদর্শনী খামার, শিক্ষা সফর ও ছোট আঞ্চলিক সভারও আয়োজন করে পেপসিকো। যেমন, চীনের চাষি ও কৃষিবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বেড প্ল্যান্টিং বা চওড়া বেডে রোপণ শেখানো হয়েছে, যাতে বেশি বীজ বোনা এবং জমি, পানি ও পুষ্টির দক্ষ ব্যবহার সম্ভব হতে পারে, তবে এর জন্য উপযুক্ত মাটি ও যন্ত্রে পরিবর্তন দরকার। মায়ার্স বলেন, সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হলো চাষিরা নিজেরা কী কাজ করেছে আর কী করেনি, তা বলাবলি করা।
জলবায়ু পরিবর্তনে আলু সংগ্রহের এলাকা বদলাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মায়ার্স বলেন, কিছু অঞ্চল কম উপযোগী হয়ে পড়তে পারে; পেপসিকোর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্ল্যাটফর্ম দিয়ে অঞ্চলভেদে এই দশকের শেষ পর্যন্ত প্রভাব আগাম দেখা যায়। পুনরুৎপাদনশীল কৃষিতে প্রতিষ্ঠানটি চর্চার তালিকা না ধরিয়ে মাটির স্বাস্থ্য এবং পানি ও পুষ্টির দক্ষ ব্যবহারের মতো ফলাফলে জোর দিচ্ছে। তাঁর মতে, তালিকা মেনে চলেও কাঙ্ক্ষিত ফল না-ও আসতে পারে।
পেপসিকো চাষিদের যন্ত্রপাতি কিনে দেয় না, তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অর্থনীতি এমন রাখার চেষ্টা করে যাতে তাঁরা বিনিয়োগ করতে পারেন বলে জানান মায়ার্স। তাঁর কথায়, কৃষিতে মাটির পরে সম্ভবত দ্বিতীয় মূল্যবান জিনিস হলো আস্থা। প্রতিবেদনটি এগনেভিগেটরের অলিভার মরিসনের।
ছবি: Rotget / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)