ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য ২ অক্টোবর থেকে নতুন নারী কৃষক ক্ষমতায়ন আইন ২০২৬-এর আওতায় "নারী কৃষক সনদ" দিতে শুরু করছে। এতে কৃষি বা কৃষিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত নারীরা জমির মালিক না হলেও কৃষক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন। মোঙ্গাবে ইন্ডিয়ায় (Mongabay India) লেখা এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এমএস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (এমএসএসআরএফ) চেয়ার ড. সৌম্যা স্বামীনাথন (Soumya Swaminathan) আইনটিকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার শক্তিশালী উদাহরণ বলেছেন। মতামত লেখকের নিজের।
তিনি সমস্যাটি তুলে ধরেছেন পরিসংখ্যান দিয়ে। পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কৃষি শ্রমশক্তির প্রায় ৬০ শতাংশ নারী, অথচ জমির দলিলের ১৫ শতাংশেরও কম তাঁদের নামে। মহারাষ্ট্রে গ্রামীণ নারী শ্রমশক্তির ৮২ শতাংশ কৃষিতে, কিন্তু চাষের জমির মাত্র প্রায় ১৫.৫ শতাংশ নারীর হাতে। দলিল না থাকায় নারীরা ঋণ, সেচের পানি, প্রযুক্তি ও কৃষি সম্প্রসারণ সেবা পেতে হিমশিম খান।
বিল নিয়ে পরামর্শসভায় নারী কৃষকেরা জানান, ভর্তুকির পাম্প, সেচ ভর্তুকি, ফসল ও প্রাণিসম্পদ বিমা, কিষান ক্রেডিট কার্ড ও কৃষিঋণের মতো অনেক সুবিধা জমির মালিকানার সঙ্গে বাঁধা, তাই তাঁরা তা পান না। জমির রেকর্ডভিত্তিক কৃষকদের ডিজিটাল তথ্যভান্ডার "অ্যাগ্রিস্ট্যাক" থেকেও তাঁরা বাদ পড়েন, আর পিএম-কিষান পেতে যে কৃষক পরিচয়পত্র লাগে, তা সাধারণত পুরুষের ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে যুক্ত।
পুরো প্রক্রিয়ায় লেগেছে ১০ মাস। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠকের পর এমএসএসআরএফ ও রাজ্য সরকার সমঝোতা স্মারক সই করে; বিধি সেন্টার ফর লিগ্যাল পলিসি বিলের খসড়া করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মুম্বাই থেকে শুরু হয়ে পুনে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর ও নাগপুরে পরামর্শসভা হয়। জুলাইয়ে বিধানসভা ও বিধান পরিষদে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।
আইনে কৃষকের সংজ্ঞা ঠিক হয়েছে কাজ দিয়ে, মালিকানা দিয়ে নয়: ফসল চাষ, পশুপালন, হাঁস-মুরগি, মাছ চাষ, কৃষি-বনায়ন, কেঁচো সার, মাশরুম চাষ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণে মালিক বা শ্রমিক হিসেবে যুক্ত সবাই কৃষক। রাজ্য পর্যায়ে নারী কৃষক ক্ষমতায়ন সেল, তদারকি কমিটি, সনদধারীদের তথ্যভান্ডার এবং প্রতিটি জেলা ও ব্লকে সহায়তা কর্মকর্তা থাকবেন।
তবে সৌম্যা স্বামীনাথনের মতে স্বীকৃতি মানেই মালিকানা নয়। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য রাজ্যগুলোকে যৌথ জমির দলিলসহ নারী-পুরুষে সমতাভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়তে হবে, কারণ জমির আইনি অধিকার থাকলে নারী কৃষিকাজ ছাড়লে, আবার বিয়ে করলে বা পরিবার ছেড়ে গেলেও তাঁর সিদ্ধান্তের জোর থাকে। এখন জরুরি, নারীদের আইনটি সম্পর্কে জানানো এবং ঋণ, বিমা ও বাজারব্যবস্থায় সনদটিকে কৃষক পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ নিশ্চিত করা।
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)