নাটোরের লালপুরে রাসায়নিক সার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা। মানবজমিনের লালপুর প্রতিনিধির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের বরাদ্দ করা সার অবৈধ মজুতকারীদের কাছে চলে যাচ্ছে; পরে হাতবদল হয়ে সেই সার ফিরে আসছে উপজেলার সাব-ডিলার ও অনুমোদনহীন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে, যেখানে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে, ভাউচার ছাড়া সার বিক্রি হচ্ছে।
বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক আসলাম উদ্দিন বলেন, আমন ধান চাষের জন্য ডিলারের কাছে চাহিদা অনুযায়ী টিএসপি, ইউরিয়া ও এমওপি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। মোমিনপুর গ্রামের মৎস্যচাষি হাফিজুল ইসলাম জানান, তাঁর ২০টি পুকুরে প্রতি মাসে ১৭ বস্তা সার লাগে; ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সার মেলে না, তবে বেশি দাম দিলে বাইরে থেকে পেতে সমস্যা হয় না।
সিন্ডিকেটের সার পরিবহনে জড়িত ভ্যানচালক আমিরুল ইসলাম (৪২) জানান, স্থানীয় ডিলার ছাড়াও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কয়েকজন সার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি প্রায়ই সার আনেন এবং মহাজনের নির্দেশে তা পাবনার ঈশ্বরদীর নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন; পরিবহনের সময় বস্তাগুলো কালো, লাল, নীল ও ছাই রঙের অস্বচ্ছ পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়। আরেক ভ্যানচালক হাবিল উদ্দিন (৪০) একই তথ্য দেন। বাঘা থেকে সার এনে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অনুমোদনহীন সার ব্যবসায়ী।
উপজেলার কীটনাশক বিক্রেতা ফুরকান আলী বলেন, অনুমোদন না থাকলেও ঈশ্বরদীর আরামবাড়িয়া থেকে সার এনে তিনি এলাকায় বিক্রি করেন; বেশি দামে কেনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। পরিচয় গোপন করে আরামবাড়িয়া বাজারের সাব-ডিলার আ. কাদেরের কাছে সার কিনতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে ৫০ বস্তা পর্যন্ত বিক্রিতে রাজি হন এবং চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে সার এনে বিক্রির কথাও জানান; তাঁর বিরুদ্ধে ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় মানবজমিনকে বলেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—দুই মাসেই চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হয়েছে; সার সংকটের কোনো কারণ নেই। পাচার রোধ ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান চলছে এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিবেদন: লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি, মানবজমিন।
সূত্র: মানবজমিন




মন্তব্য
(০)