কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি বছরে সাত-আট মাস পানির নিচে থাকে। উপজেলার ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে এসব জমিতে কৃষকেরা বছরে শুধু একবার বোরো করতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের হিসাবে ২০২৪ সালে জলাবদ্ধ জমি ছিল ৫১০ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি নন্দলালপুর ইউনিয়নে ২৯০ হেক্টর, এরপর সদকীতে ২৫০ ও জগন্নাথপুরে ২৪০ হেক্টর। বৃষ্টি বাড়ায় প্রতিবছর এই জমি বাড়ছে বলে জানিয়েছে কার্যালয়টি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, এসব জমিতে শুধু বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ২২৫ টন ধান হয়। আমন ও আউশ করা গেলে আরও ১০ হাজার টন শস্য উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
কৃষকদের অভিযোগ, জিকে সেচ খাল থাকলেও পানি বের করার পরিকল্পিত নালা নেই। যেসব খাল আছে সেগুলোও নিয়মিত সংস্কার হয় না; কোথাও খাল ভরাট করে বসতি, কোথাও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ। লোকসানে অনেকে জমিতে পুকুর কেটেছেন।
বহলবাড়ীয়া বিলের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ১০-১২ বছর আগেও খাল দিয়ে পানি গড়াই নদীতে চলে যেত, তখন বছরে তিনবার ধান হতো। করাতকান্দি বিলের আজাহার বিশ্বাসের ভাষ্য, এক চাষে বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মণ ধান পান, সেই আয় আগাছা পরিষ্কারেই শেষ হয়ে যায়।
ইউএনও মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, সরকারের চলমান খাল খনন প্রকল্পে কুমারখালীর দুটি খালের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খনন শুরু হলে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমবে। জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ, কৃষক, বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

মন্তব্য
(০)