কাঁচা পাট রপ্তানি না করে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে চায় সরকার। শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধনের সময় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা জানান। পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্যাকেজিং ও ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি বলেন।
মন্ত্রীর হিসাবে, গত বছর বাজারের সর্বোচ্চ সময়ে এক টন কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। সেই পাট প্যাকেজিং পণ্যে রূপান্তর করলে টনপ্রতি মূল্য ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উঠতে পারে। পাটের সঙ্গে তুলা বা অন্য তন্তু মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবার করলে টনপ্রতি ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার, এমনকি ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব। কাঁচা পাট আর স্লাইভারের পরের ধাপগুলোতেই মূল্য সংযোজন বেশি।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে পাটসহ অন্য খাতের বিকাশ চায় সরকার। পাটজাত বহুমুখী পণ্যের প্রচারে স্থায়ী শোরুম চালু করা হয়েছে, যাতে দেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গেও পণ্যের পরিচয় করানো যায়। অনেক পণ্য যন্ত্রনির্ভর হলেও বেশ কিছু হাতে তৈরি, যা ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে গড়ে উঠছে।
পাটের তৈরি পলিথিনসহ বহুমুখী পণ্যের সম্প্রসারণ ও রপ্তানি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জেডিপিসি ও খাতের উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি পরিকল্পনা হচ্ছে, যার লক্ষ্য পাটের সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন। দেশে কী পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয় এবং তার কতটা কোন খাতে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে; ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিবেদনটি বাংলা নিউজ ২৪-এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)