জামালপুরের খাদ্যঐতিহ্যের একটি নাম পিঠালি। মাংস, চালের গুঁড়া আর নানা মসলায় তৈরি ঘন ও সুস্বাদু এই পদ স্থানীয়ভাবে মিল্লি, মিলানি, ম্যান্দা বা মেন্দা নামেও পরিচিত। ডেইলি বাংলাদেশের জীবনযাপন পাতায় এর ইতিহাস ও রান্নার ধরন তুলে ধরা হয়েছে।
পিঠালি ঠিক কবে থেকে প্রচলিত, তার নির্ভরযোগ্য লিখিত ইতিহাস নেই। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, শত বছরের বেশি সময় ধরে এ ঐতিহ্য চলছে; স্বাধীনতার আগেও গ্রামের সালিস, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পিঠালি পরিবেশন হতো। কারও মতে আঠারো শতকে চরাঞ্চলে বসতি গড়ার সময় আপ্যায়নের খাবার হিসেবে এর শুরু, তবে লেখায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এটি নিশ্চিত ইতিহাস নয়।
মূল উপকরণ মাংস ও চালের গুঁড়া। সাধারণত গরুর মাংস, কখনো খাসি বা মহিষ; সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, হলুদ, মরিচ ও ধনে। মাংস মসলায় কষিয়ে কিছুটা সেদ্ধ হলে পানি দেওয়া হয়, তারপর পানিতে গোলা চালের গুঁড়া দিলে ধীরে ধীরে রান্না ঘন ও আঠালো হয়। শেষে পেঁয়াজ, রসুন ও জিরার বাগাড়। দেখতে কিছুটা হালিমের মতো হলেও স্বাদ ও ঘ্রাণে আলাদা।
পিঠালি প্রতিদিনের খাবার নয়, আয়োজনের খাবার। বিয়ে, আকিকা, খতনা, মিলাদ বা পরিবারের বড় অনুষ্ঠানে এটি রান্না হয়। কারও মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ দিনের দোয়া ও খাবারের আয়োজনে, যাকে অনেক এলাকায় ‘বেপার’ বলা হয়, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সারিবদ্ধ বসে কলাপাতায় ভাতের সঙ্গে গরম পিঠালি খান।
প্রতিবেদনটি ডেইলি বাংলাদেশের জীবনযাপন পাতার প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Sm faysal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)