দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক এমন একটি স্বয়ংক্রিয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, যা খামারে রাতের বেলায় কালো-পিঠ শিয়ালের ভিডিও ধারণ করে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ক্লাউডে পাঠায়। মেরে ফেলার পদ্ধতিতে যে শিকারি প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, তার হাত থেকে ভেড়া বাঁচাতে খামারিদের সহায়তা করাই লক্ষ্য। খবরটি দিয়েছে কৃষি সংবাদমাধ্যম ফুড ফর মজান্সি।
সমস্যাটা পুরোনো: কালো-পিঠ শিয়াল ভেড়া শিকার করে ছোট ও নতুন খামারিদের বড় ক্ষতি করে, সঙ্গে আর্থিক ও মানসিক চাপও তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং গবেষণাগারের ডক্টরাল শিক্ষার্থী মেগান লে রু বলেন, রাতে রেকর্ড করা ডাক বাজিয়ে শিয়াল কাছে এনে গুলি করার মতো আইনি পদ্ধতিও সমস্যার সমাধান করেনি। পরিবেশবিদদের মতে, শিয়াল মারলে তাদের সামাজিক কাঠামো ভেঙে যায়, অল্পবয়সী মাদিরা বাচ্চা দিতে শুরু করে আর অন্য শিয়াল এসে এলাকা দখল করে; তাতে শিকার উল্টো বাড়তে পারে। আবাসস্থল হারানো ও প্রাকৃতিক শত্রু কমে যাওয়ায় দেশটির পশুপালন এলাকায় শিয়ালের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে জানান তিনি।
ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর গবেষণার অংশ হিসেবে লে রু একটি বায়োটেলিমেট্রি ব্যবস্থা তৈরি করেন, যাতে খামারের নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো থাকে তারবিহীন সেন্সর নোড। প্যাসিভ ইনফ্রারেড সেন্সর নড়াচড়া টের পেলেই কম আলোতে ছবি তুলতে সক্ষম ক্যামেরা ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ধারণ করে; প্রতিটি নোড দূরপাল্লার ওয়াই-ফাই দিয়ে একটি অ্যাক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে তা গুগল ড্রাইভে পাঠায়। নোডগুলো নির্দিষ্ট বিরতিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও মাপে। প্রচলিত ক্যামেরা ফাঁদের মতো এতে বারবার ব্যাটারি বদলাতে বা মেমোরি কার্ড সংগ্রহ করতে হয় না।
সিমুলেশন সফটওয়্যারে পরীক্ষার পর ব্যবস্থাটি একটি গ্রামীণ খামার ও একটি ঘোড়ার খামারে বসানো হয়। ২০২৫ সালের ৫ থেকে ১০ নভেম্বর পাঁচ দিনের মাঠ পরীক্ষায় এটি দিনে-রাতে নির্ভরযোগ্যভাবে ভিডিও ধারণ করে এবং কারও হাত না লাগিয়েই ৩০ সেকেন্ডের ৭০৯টি ভিডিও, প্রায় ১.৩ গিগাবাইট তথ্য পাঠায়।
লে রু বলেন, শিয়াল ও একই ধরনের মাঝারি শিকারি প্রাণীর শিকার, খাদ্যাভ্যাস ও প্রজননের এসব তথ্য খামারি ও বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানীদের তাদের আচরণ বুঝতে সাহায্য করবে। দীর্ঘ মেয়াদে এতে সমস্যা সৃষ্টিকারী প্রাণী ব্যবস্থাপনার আরও নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব পথ তৈরি হতে পারে। গবেষণাগারটি পরিচালনা করেন অধ্যাপক রিয়ান ভলহুটার ও টমাস নিসলার।
ছবি: Hans Hillewaert / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)