চেনা জিনের বিরল রূপ ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের বড় উৎস হতে পারে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা জিনোম বিশ্লেষণ করে এমন ২১০টি বিরল হ্যাপ্লোটাইপ শনাক্ত করেছেন, যেগুলো ফলন, দানার মান ও প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। খবরটি দিয়েছে এজিনেভিগেটর।
হ্যাপ্লোটাইপ হলো একটি জিনের আলাদা রূপ, যা একসঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কয়েকটি জিনগত বৈচিত্র্যের মিলনে তৈরি হয়। বিরল রূপগুলো খুব কম জাতের মধ্যে পাওয়া যায় বলে প্রজননবিদেরা এত দিন এগুলোর দিকে তেমন নজর দেননি। গবেষকদের মতে, পরবর্তী প্রজন্মের নিখুঁত প্রজননে এগুলোর ভূমিকা হতে পারে কেন্দ্রীয়।
দলটি ৩ হাজার ধানের জিনোমের তথ্যভান্ডারে কার্যকারিতা জানা ১ হাজার ৬৪৪টি জিন বিশ্লেষণ করে। বেশির ভাগ জিনের ২ থেকে ১৫টি আলাদা রূপ পাওয়া গেছে। কিছু রূপ বিশ্বজুড়ে ছড়ানো, আবার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপগোষ্ঠীতে সীমিত, যা ইঙ্গিত দেয় স্থানীয় পরিবেশের চাপে এগুলো তৈরি হয়েছে।
মাঠে এর কাজ হয় কি না, তা দেখতে গবেষকেরা বেছে নেন ডিইপি১ জিন, যা ধানের শিষের গড়ন ও ফলন নিয়ন্ত্রণ করে। এর একটি বিরল রূপ ডিইপি১-এইচ২, যা গবেষণার জনগোষ্ঠীতে মাত্র ০.০৭ হারে পাওয়া যায়। ভারতে বহুল চাষ হওয়া উচ্চফলনশীল জাত স্বর্ণায় এটি যুক্ত করার পর শিষ ২৯ থেকে ৩৪ শতাংশ লম্বা হয়েছে, আর মাঠ পরীক্ষায় ফলন বেড়েছে সর্বোচ্চ ৯.৮৭ শতাংশ। সবচেয়ে লম্বা শিষের লাইনেই সবচেয়ে বেশি দানা মিলেছে।
বিরল রূপগুলো ইন্ডিকা ও আউশ ধানে বেশি, জাপোনিকায় তুলনামূলক কম। তাই গবেষকেরা ইন্ডিকা ও আউশ জাতের জার্মপ্লাজমকে অব্যবহৃত বৈচিত্র্যের ভান্ডার বলছেন। দানার মান ও প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি বিরল রূপ যাচাইয়ের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকেরা বিভিন্ন জিনের ভালো রূপ একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন, যাতে জাত আরও স্থিতিশীল ও খাপ খাওয়ানোর উপযোগী হয়। তাদের ভাষায়, গবেষণাটি বড় পরিসরে হ্যাপ্লোটাইপভিত্তিক প্রজননের একটি কাঠামো; পরের ধাপে বিরল রূপগুলো তুলনা ও একত্র করে জলবায়ু-সহনশীল, উচ্চফলনশীল ধান তৈরির কাজ হবে।
ছবি: International Rice Research Institute / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)