নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ছড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন কৃষি গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ভাষ্য, নির্বিচার ও মাত্রাতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারে ফসলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে; মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং উপকারী পোকা, জলজ প্রাণী ও মাছের ক্ষতি হচ্ছে।
রাসায়নিক ছাড়াই পোকা দমনের কয়েকটি পদ্ধতি দেশে ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে—সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও আলোর ফাঁদ। ধানের ক্ষতিকর পোকা দমনে ‘পার্চিং’ও কার্যকর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: ধানখেতে বাঁশের আগা, কঞ্চি বা ডাল পুঁতে দিলে পাখি সেখানে বসে পোকা ধরে খায়। কৃষিবিদদের মতে, মাজরা পোকা দমনে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, আইপিএমে পরিবেশ দূষণমুক্ত রেখে এক বা একাধিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমার নিচে রাখা হয়—উপকারী পোকা সংরক্ষণ, বালাই সহনশীল জাত, আধুনিক চাষপদ্ধতি এবং শেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশকের সময়োচিত ও যুক্তিসংগত ব্যবহার।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সাবেক প্রধান ও সিটি ইউনিভার্সিটির কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম বলেন, বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুয়ের জন্যই ঝুঁকি, আর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মিত্রপোকা ধ্বংস হয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক কৃষক সঠিক মাত্রা, প্রয়োগের সময় ও নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম জানেন না; অননুমোদিত ও ভুল মাত্রার ব্যবহারে পোকার প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ে।
জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, আইপিএমের মূল লক্ষ্য কম বালাইনাশকে পোকা দমন এবং জৈব বালাইনাশক ও জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক (বালাইনাশক মান নিয়ন্ত্রণ) কৃষিবিদ মো. মাজেদুর রহমান জানান, গত প্রায় তিন বছর অধিদপ্তরে আইপিএমভিত্তিক প্রকল্পের ঘাটতি থাকায় মাঠপর্যায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের কাজ এবং কৃষক ও কর্মকর্তাদের আইপিএম জ্ঞানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে; দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম কীটনাশকের পরামর্শ নয়, কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)।
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)