জন্মের এক দিনের মধ্যে নাকে টিকা এবং চারণে ছাড়ার সময় ইনজেকশনের বুস্টার পাওয়া বাছুর শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের মুখোমুখি হয়ে শুধু ইনজেকশন পাওয়া বাছুরের চেয়ে অনেক ভালো থেকেছে। কানাডার ওয়েস্টার্ন কলেজ অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের গবেষক ড. নাথান এরিকসনের (Nathan Erickson) এক পরীক্ষায় এ ফল পাওয়া গেছে।
সাসকাচোয়ানের ক্লাভেটের কাছে লাইভস্টক অ্যান্ড ফরেজ সেন্টার অব এক্সিলেন্সের মাঠ দিবসে তিনি গবেষণাটি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, খামারিরা যাকে ‘টিকার ব্যর্থতা’ বলেন, তার অনেকটাই টিকার কাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা; টিকার কাছে সব রোগ ঠেকানোর প্রত্যাশা নয়, রোগের তীব্রতা কমানোর প্রত্যাশা করা উচিত।
ছোট বাছুরের ক্ষেত্রে সমস্যা শালদুধ। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি জন্মের সময় সবচেয়ে বেশি থাকে এবং দুধ ছাড়ানোর সময় প্রায় শেষ হয়ে যায়; এই অ্যান্টিবডি ইনজেকশনের টিকাকে বহিরাগত ধরে নিয়ে আংশিক নিষ্ক্রিয় করে। ফলে প্রায় দুই মাস বয়সে টিকা দিলে সাড়া মেলে, কিন্তু শক্তিশালী রোগ-প্রতিরোধ স্মৃতি তৈরি হয় না। এর দুর্বলতা পরে ধরা পড়ে, যখন দুধ ছাড়ানো বাছুর ফিডলটে নানা জায়গার পশুর সঙ্গে মেশে।
নাকে দেওয়া বা মিউকোসাল টিকা মায়ের অ্যান্টিবডিকে কিছুটা এড়িয়ে দ্রুত কাজ করে, তবে সুরক্ষা থাকে মাত্র তিন-চার মাস এবং নিজে থেকে শক্তিশালী স্মৃতি তৈরি করে না। তাই এরিকসন ‘প্রাইম বুস্ট’ পদ্ধতি পরীক্ষা করেন: এক দলকে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাকে টিকা এবং চারণে ছাড়ার সময় ইনজেকশন দেওয়া হয়; অন্য দল পায় শুধু চারণে ছাড়ার সময়ের ইনজেকশন।
দুধ ছাড়ানোর সময় দুই দলকেই ট্রেলারে তুলে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছিটিয়ে দেওয়া হয়। সাত-আট দিনের মধ্যে বেশির ভাগ বাছুর এত অসুস্থ হয়ে পড়ে যে পরীক্ষা আগেভাগেই থামাতে হয়। শুধু ইনজেকশন পাওয়া দলে ফুসফুসের ক্ষত বেশি গুরুতর ছিল, নাক দিয়ে ভাইরাস বেশি দিন ঝরেছে, জ্বর বেশি ছিল এবং রোগের লক্ষণ বেশি তীব্র ছিল।
এরিকসন বলেন, সামগ্রিক তথ্য প্রাইম বুস্ট পদ্ধতির কিছু সুফল দেখায়; অন্যান্য ভাইরাস নিয়ে মাঠ পরীক্ষাতেও একই ধরনের ফল এসেছে। গাভী-বাছুর পালনকারী খামারিদের জন্য বার্তা হলো, টিকা কোনটি তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ কখন ও কোন পথে দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন জ্যানেল রুডলফ (Janelle Rudolph)।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator





মন্তব্য
(০)