কৃষিরাসায়নিকে ডেটা সুরক্ষা চালুর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ভারতের দেশীয় ফসল সুরক্ষা পণ্য উৎপাদকদের সংগঠন ক্রপ কেয়ার ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (সিসিএফআই)। নয়াদিল্লিতে সংগঠনটির ৬৩তম বার্ষিক সাধারণ সভার খবর দিয়ে গ্লোবাল এগ্রিকালচার জানিয়েছে, সিসিএফআইয়ের মতে এতে কৃষকের কাছে সাশ্রয়ী পণ্য পৌঁছাতে দেরি হবে এবং ভারতের উৎপাদন সুবিধা দুর্বল হবে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান দীপক শাহ বলেন, পেটেন্ট করা ফসল সুরক্ষা পণ্য প্রায়ই অন্য দেশের অনেক পরে ভারতে আসে। দেরিতে আসা পণ্যে বাড়তি ডেটা সুরক্ষা দিলে পেটেন্টের মেয়াদ শেষে জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আনার সময় দেশীয় উৎপাদকেরা খুব কমই পাবেন। তাঁর ভাষায়, এতে প্রতিযোগিতামূলক দেশীয় উৎপাদনের দামের সুবিধা থেকে কৃষকেরা বঞ্চিত হবেন।
শাহের হিসাবে, পেটেন্টের মেয়াদ শেষে ভারতে কোনো অণু তৈরি করলে উৎপাদন খরচ আগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে নেমে আসে। সংগঠনটির হিসাবে দেশের কৃষিরাসায়নিক উৎপাদন অবকাঠামোর মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপি।
ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ আগরওয়াল প্রশ্ন তোলেন, নতুন অণু উদ্ভাবনকারী কোম্পানিগুলো সারা বিশ্বের জন্য ডেটা তৈরি করে, তাহলে পেটেন্ট থাকা অবস্থায় ভারতে নিবন্ধন করে না কেন। তিনি জানান, গত দুই বছরে ভারতে ৩৬টি নতুন কীটনাশক অণু নিবন্ধিত হয়েছে, যাকে সংগঠনটি রেকর্ড বলছে; অর্থাৎ ডেটা সুরক্ষা না থাকায় নতুন পণ্য আটকে নেই। প্রস্তাবটিকে তিনি 'পশ্চাৎমুখী' এবং সরকারের 'মেক ইন ইন্ডিয়া' লক্ষ্যের পরিপন্থী বলেন।
আগরওয়ালের মতে, বিশ্বের কৃষিরাসায়নিক বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই জেনেরিক পণ্য, যেখানে ভারতীয় উৎপাদকেরা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতা করছেন। সিসিএফআই ২০২১ সালের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করে, যা সংগঠনটির ব্যাখ্যায় ২০ বছরের পেটেন্টকেই যথেষ্ট একচেটিয়া সময় বলে মনে করেছিল।
সংগঠনটির দাবি, নীতির মনোযোগ থাকা উচিত নতুন অণুর সময়মতো নিবন্ধনে, আর পেটেন্ট-পরবর্তী জেনেরিক পণ্যের প্রতিযোগিতা বজায় রাখায়।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)