বর্ষায় এল নিনোর প্রভাবের কারণে ২০২৬-২৭ ফসল বছরের জন্য ভারত খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্য সামান্য কমিয়ে ৩৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টন করেছে। রবি অভিযান উপলক্ষে জাতীয় কৃষি সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এ কথা জানান বলে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে লিখেছেন সন্দীপ দাস।
এর মধ্যে রবি বা শীতকালীন ফসলের লক্ষ্য ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টন, যা গত শীতের প্রকৃত উৎপাদন ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টনের চেয়ে বেশি। "কম বৃষ্টি হয়েছে, জলাধারের পানি ও মাটির আর্দ্রতা কম, এমন এলাকায় বেশি পানি লাগা ফসল এড়িয়ে ডাল ও তেলবীজ বোনায় উৎসাহ দিতে চাই," বলেন চৌহান। তিনি জানান, পানির প্রাপ্যতা ও মাটির আর্দ্রতা বিবেচনায় রাজ্যওয়ারি আলোচনা করে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
জুন-সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কম, তবে চৌহানের মতে বড় কোনো সংকট নেই, কিছু জায়গায় খরিফ ফসল গত বছরের চেয়েও ভালো। প্রাথমিক তথ্যে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাটে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল অতিবৃষ্টি, বন্যা বা খরায় ক্ষতিগ্রস্ত। মোট খরিফ বোনা মাত্র প্রায় ১ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর হয়েছে; সবচেয়ে বেশি কমেছে ধান, প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর, ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলাও কিছুটা কমেছে।
কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র ছাড়া আর কোন রাজ্যে খরার মতো অবস্থা, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী রায়ালসীমাসহ অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশ, তেলেঙ্গানা ও রাজস্থানের কিছু অংশের কথা বলেন। তিনি রাজ্যগুলোকে রোগ ও পোকা থেকে ফসল রক্ষা, সব যোগ্য কৃষককে কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের আওতায় আনা এবং ফসল বিমায় স্বচ্ছভাবে শস্য কর্তন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে রবি মৌসুমে ইউরিয়া, ডিএপি ও এনপিকে মিলিয়ে সারের চাহিদা ৩ কোটি ৮০ লাখ টন। ১ অক্টোবর প্রারম্ভিক মজুত ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টন, যার মধ্যে ইউরিয়া ৮৩ লাখ ৩০ হাজার, ডিএপি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ও এনপিকে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টন; এটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের ১ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টনের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। "বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশে সারের ঘাটতি নেই," বলেন চৌহান।
ছবি: Yann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস





মন্তব্য
(০)