ভারতের ফসল সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টাল ক্রপ প্রোটেকশন (Crystal Crop Protection) ও যুক্তরাষ্ট্রের জিন সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান সিবাস (Cibus) ভারতের জন্য সরিষায় (ব্রাসিকা জানসিয়া) জিন সম্পাদিত বৈশিষ্ট্য তৈরির চুক্তি করেছে। ভারতে এসব বৈশিষ্ট্য যাচাই ও বাজারজাত করার একচেটিয়া লাইসেন্স পাবে ক্রিস্টাল ক্রপ।
সরিষা ভারতের রান্নার প্রধান তেলবীজ, আর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সরিষা হয় ভারতেই, প্রায় ৮৫ লাখ হেক্টরে। তবু দেশটি ব্যবহৃত ভোজ্যতেলের অর্ধেকের বেশি, বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টন আমদানি করে, যার বেশির ভাগ পাম ও সয়াবিন তেল। ভারতে সরিষার গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৪০০ কেজি, যেখানে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোতে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ কেজি।
সিবাস জানায়, তাদের প্রযুক্তি বাইরের কোনো ডিএনএ না ঢুকিয়ে গাছের নিজের জিনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনে এবং প্রচলিত প্রজননের চেয়ে অনেক কম সময়ে উন্নত জাত দেয়। ক্রিস্টাল ক্রপ দেবে তাদের সরিষা কর্মসূচি, ভারতের বীজবাজারের অভিজ্ঞতা এবং ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২৩টি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৪,৮২৩-এর বেশি পরিবেশকের নেটওয়ার্ক।
সিবাসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পিটার বিথাম বলেন, ‘খুব কম দেশেই কোনো ফসল এতটা গুরুত্বপূর্ণ, যতটা ভারতের কাছে সরিষা।’ ক্রিস্টাল ক্রপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঙ্কুর আগরওয়াল বলেন, লক্ষ্য এমন সরিষা, ‘যা প্রতি একরে বেশি ফেরত দেয়।’
ভারতের ২০২৪ সালে চালু হওয়া ভোজ্যতেল ও তেলবীজ জাতীয় মিশন ২০২২-২৩ সালের প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ টন তেলবীজ উৎপাদন ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭ কোটি টনে নিতে চায়, আর জিনোম সম্পাদনাকে তার অন্যতম হাতিয়ার বলেছে। ২০২২ সালে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়, বাইরের ডিএনএ ছাড়া নিজের জিনে সম্পাদিত ফসল জিএমও বিধির আওতায় পড়ে না।
প্রতিবেদনটি এগ্রোপেজেসে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠান দুটির ঘোষণার ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Nitin Das / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroPages




মন্তব্য
(০)