আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) খাদ্যব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে যৌথ বিনিয়োগ বাড়াতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে দুটি সহ-অর্থায়ন চুক্তি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার সময় চুক্তিগুলো সই হয়।
১৪ অক্টোবর সই হওয়া নতুন সহযোগিতা ও সহ-অর্থায়ন চুক্তির আওতায় আইএফএডি ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) টেকসই কৃষি উন্নয়নে ৭৫ কোটি ডলার পর্যন্ত সহ-অর্থায়ন জোগানোর লক্ষ্য নিয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠান একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে, যাতে থাকবে কৃষি ব্যবসার মূল্য শৃঙ্খল, বাজারে প্রবেশাধিকার, গ্রামীণ অর্থায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পানির প্রাপ্যতা; কৃষি ব্যবসা ও গ্রামীণ ছোট-মাঝারি উদ্যোগের জন্য বেসরকারি খাতের কার্যক্রমও বাড়বে। ১৯৮০ সালে অংশীদারত্ব শুরুর পর থেকে আইএসডিবি ও আইএফএডি প্রায় ১৪৫ কোটি ডলারের ২৯টি প্রকল্পে যৌথ অর্থায়ন করেছে।
আইএফএডির প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে খাদ্যব্যবস্থার ‘প্রথম মাইলে’ বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান, আয় এবং আরও সমৃদ্ধ ও সহনশীল গ্রামীণ অর্থনীতি গড়া হবে। আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আল জাসের বলেন, নবায়িত অংশীদারত্ব প্রায় পাঁচ দশকের সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে।
এর এক দিন আগে, ১৩ অক্টোবর, আইএফএডি ও বিশ্বব্যাংক নতুন সহ-অর্থায়ন কাঠামো চুক্তিতে সই করে। এতে দেশভিত্তিক বিনিয়োগে সহ-অর্থায়নের ব্যবস্থা আধুনিক করা হয়েছে এবং কারিগরি সহায়তা, ক্রয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অর্থছাড় ও পরিবেশগত-সামাজিক তদারকিতে অভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে; তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি ও অর্থায়নের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর, এরপর আপনা থেকে আরও পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে।
বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাংক গ্রুপই আইএফএডির সবচেয়ে বড় অংশীদার। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) সঙ্গে আইএফএডির সহ-অর্থায়ন ২০২১ সালের প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ১৫৬ কোটি ডলার হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে অ্যাগ্রিকানেক্ট উদ্যোগে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের কৃষিতে রূপান্তর আনা, আর লেসোথোর ৭ কোটি ৫ লাখ ডলারের এক কর্মসূচিতে, যা আইএফএডির হিসাবে প্রায় ১,৫০০ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি মানুষ জলবায়ু-সহনশীল চাষপদ্ধতি নিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, নতুন প্রজন্মের সুযোগ দরকার, আর কৃষি হতে পারে কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার শক্তিশালী উৎস।
ছবি: Sahmeditor / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আইএফএডি





মন্তব্য
(০)