খামারিদের কাছে ইজারা দেওয়া কেন্দ্রীয় চারণভূমিতে গবাদিপশুর পানির (স্টকওয়াটার) অধিকার নিয়ে আইডাহো অঙ্গরাজ্যের আইনি প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসাংবিধানিকভাবে বৈষম্যমূলক বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত।
আপিল আদালত ২০২৪ সালে আইডাহোর প্রধান জেলা বিচারক ডেভিড নাইয়ের (David Nye) দেওয়া রায় উল্টে দিয়েছে। বিচারক নাই সংশোধিত আইনের কয়েকটি ধারা বাতিল করলেও পানির অধিকার বাজেয়াপ্ত করার নতুন প্রক্রিয়াটি বহাল রেখেছিলেন।
২০১৭ সালে আইডাহোর আইনপ্রণেতারা রাজ্যের পানি আইন সংশোধন করে পশুর পানির অধিকারে কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানা সীমিত করেন এবং বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া বদলান। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হস্তক্ষেপ’ থেকে পানির অধিকারধারীদের রক্ষা করা। সংশোধনীগুলো স্নেক রিভার বেসিন অ্যাডজুডিকেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কথা বলা হয়েছিল, যে প্রক্রিয়ায় অঞ্চলের পানির অধিকারের তালিকা তৈরি ও নিশ্চিত করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এর বিরুদ্ধে মামলা করে।
নতুন প্রক্রিয়ায় পাঁচ বছর ধরে ব্যবহার না হওয়া পানির অধিকার বাজেয়াপ্তের আবেদন করা যায়, তখন অধিকারধারীকে তা রক্ষা করতে হয়—যদি না প্রমাণ দেওয়া যায় যে কোনো ‘প্রতিনিধি’ অধিকারটি বজায় রেখেছেন। কিন্তু সংশোধিত আইনে কেন্দ্রীয় অনুমতিপত্রে পশু চরালেই খামারিকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ধরা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকার নিজে পশু পালন না করে খামারিদের পানি ব্যবহারের মাধ্যমেই ঐতিহাসিকভাবে এই অধিকার অর্জন করেছে; তাই আদালতের মতে প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিশ্চিত পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনারই অংশ।
আইডাহোর যুক্তি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে অধিকার হারানো এড়াতে পারে; আদালত সেই যুক্তিকে ‘ফাঁপা’ বলেছে এবং জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রকে একের পর এক বোঝাস্বরূপ মামলার মুখে ফেলছে। খামারির মূল বসতজমির সঙ্গে পানির অধিকার যুক্ত করার বিধান আইডাহো সুপ্রিম কোর্টের রায়েরই প্রতিফলন—রাজ্যের এই যুক্তিও আদালত নাকচ করেছে; আদালতের মতে রাজ্য ওই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করেছে।
কেন্দ্রীয় চারণভূমিতে পশু চরানো খামারিদের জন্য রায়টির অর্থ হলো, সেখানে পানির অধিকার খামারের মূল বসতজমির সঙ্গে নয়, যে কেন্দ্রীয় জমিতে পানি ব্যবহৃত হয় তার সঙ্গেই যুক্ত থাকবে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন মাতেউশ পেরকোস্কি (Mateusz Perkowski)।
ছবি: BLM Idaho / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Capital Press





মন্তব্য
(০)