যে পেঁয়াজের জাত এক অঞ্চলে ভালো ফলন দেয়, অন্য অঞ্চলে গিয়ে প্রায়ই তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে ভারতের পুনেতে আইসিএআর-পেঁয়াজ ও রসুন গবেষণা অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা এমন কয়েকটি লাইন শনাক্ত করেছেন, যারা নানা পরিবেশেও ভালো ফলন ধরে রাখে। ৬ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে এগ্রোপেজেস। অমর জিৎ গুপ্তার নেতৃত্বে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিংয়ে।
২০২০-২১ সালের রবি মৌসুমে পাঁচটি ভিন্ন কৃষি-জলবায়ু অঞ্চলে ৪৩টি লাল ও সাদা পেঁয়াজের জাত পরীক্ষা করা হয়, অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক রিসার্চ প্রজেক্ট অন অনিয়ন অ্যান্ড গার্লিকের আওতায়, আইসিএআরের অর্থায়নে। দেখা গেছে, জাত, পরিবেশ এবং দুইয়ের পারস্পরিক ক্রিয়া, তিনটিই বাজারজাতযোগ্য ফলনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
এএমএমআই নামের পরিসংখ্যান মডেলে দেখা যায়, লাল পেঁয়াজে জাত ও পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়ার ৯১.৩ শতাংশ আর সাদা পেঁয়াজে ৯৬.৮ শতাংশ একটিমাত্র অক্ষে ব্যাখ্যা করা যায়। লাল লাইন আরও-১৭৬৯, আরও-১৭৭৩, আরও-১৭৮৩ এবং ভীমা কিরণ ও এনএইচআরডিএফ রেড-২ জাত, আর সাদা লাইন ডব্লিউ-৪৪৪, ডব্লিউ-৫০০ ও ডব্লিউ-০৪৫ উচ্চ গড় ফলনের সঙ্গে স্থান বদলেও স্থিতিশীল থেকেছে।
অন্যান্য কয়েকটি স্থিতিশীলতার মাপকাঠি দিয়েও ফল যাচাই করা হয়; লিন ও বিনসের শ্রেষ্ঠত্ব সূচক উচ্চফলনশীল ও স্থিতিশীল জাত বাছাইয়ে সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, যা সীমিত সামর্থ্যের প্রজনন কর্মসূচির জন্য সস্তা বাছাই পদ্ধতি হতে পারে বলে মনে করেন লেখকেরা।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় পেঁয়াজ উৎপাদক, আর এ ফসলের ফলন আবহাওয়ার ওপর খুব নির্ভরশীল; জলবায়ু পরিবর্তনে এই ঝুঁকি বাড়বে। শনাক্ত আটটি লাইন এখন বড় পরিসরের মূল্যায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল জাত হিসেবে অবমুক্তির সম্ভাব্য প্রার্থী, যা পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ছবি: Nishaexport / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)