পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার ডোমজুড়ে ভান্ডারদহ সেতুর নিচে সরস্বতী নদীর জলে শনিবার সকালে হঠাৎ অস্বাভাবিক বুদবুদ উঠতে দেখা যায়। দেখে মনে হচ্ছিল জল ফুটছে, সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে কটু গন্ধ। খবর পেয়ে নদীর পাড়ে বহু মানুষ ভিড় করেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর বুদবুদ ধীরে ধীরে কমে বন্ধ হয়ে যায়।
নদীর ধারের বাসিন্দা পূজা পাল বলেন, এই প্রথম তাঁরা জলে এভাবে বুদবুদ দেখলেন; তাঁর অভিযোগ, নোংরা, আবর্জনা আর কারখানার অ্যাসিড জল নদীতে মিশছে। আরেক বাসিন্দা বরুণ নস্করের মতে, ব্যাপক দূষণে গ্যাস তৈরি হয়ে বুদবুদ উঠছে ও গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সরস্বতী নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক বাপি ঠাকুর বলেন, দীর্ঘদিন নদীর কোনো সংস্কার হয়নি এবং দূষণ বেড়েই চলেছে। পচা পাঁকে অনেক সময় নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের মতো গ্যাস তৈরি হয়; তাঁর ধারণা, সেই গ্যাস থেকেই এই বুদবুদ।
বাপি ঠাকুরের হিসাবে সাঁকরাইল থেকে ত্রিবেণী পর্যন্ত সরস্বতীর ৭৭ কিলোমিটারের বেশির ভাগই মজে নালায় পরিণত হয়েছে, কোথাও তা সরু ড্রেন। তিনি বলেন, প্রশাসন, সেচ দপ্তর ও পাড়ের মানুষের বছরের পর বছরের উদাসীনতায় নদীর এই দশা; সরস্বতীতে আর মাছ জন্মায় না, নদীর জলে চাষাবাদও হয় না।
ভাগীরথীর চেয়েও পুরোনো সরস্বতীর তীরে বহু প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন মিলেছে; প্রাচীন সপ্তগ্রাম বন্দর ছিল এই নদীর তীরেই। নগরায়ণ আর দূষণে মজে গিয়ে সেই নদী এখন কার্যত ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনটি করেছেন সংবাদ প্রতিদিনের কৌশিক সিনহা।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন





মন্তব্য
(০)