পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার গ্রামীণ এলাকায় টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে ফুলচাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, জানিয়েছে এই সময়। বাগনানের দেউলটি, ওড়ফুলি, ভুলগেড়িয়া, রানা, বাঁকুড়দহ, হেলেদ্বীপ, বৈদ্যনাথপুর, বিরামপুর ও কল্যাণপুরের মতো গ্রামে হাজার হাজার একর জমিতে গাঁদা, অপরাজিতা, জুঁই, জারবেরা, নানা জাতের গোলাপ, রজনীগন্ধা ও জবার চাষ হয়; এলাকার বেশির ভাগ মানুষ ফুলচাষের ওপর নির্ভরশীল।
বেশির ভাগ ফুলখেত রূপনারায়ণ নদীর ধারে, সারা বছরই জোয়ারের পানি ঢোকে, তাতে চাষিরা অভ্যস্ত। কিন্তু এবারের অসময়ের টানা বর্ষণ তাঁদের হিসাবে ছিল না। বছরের উৎসবের মৌসুমে ফুল বিক্রির লাভই চাষিদের সারা বছরের বড় ভরসা, আর সেই মৌসুমের আগেই এই ক্ষতি।
ওড়ফুলির ফুলচাষি পুলক ধাড়া বলেন, এ বছর বৃষ্টি অনেক বেশি; গাছের গোড়ায় পানি জমে ফুল ঝরে যাচ্ছে, কুঁড়িও ঝরে পড়েছে, এরপর গাছের রং লাল হয়ে যাবে। এত অল্প সময়ে নতুন গাছ লাগিয়ে ফুল তোলা সম্ভব নয়। আরেক চাষি শেখ আনোয়ার আলি বলেন, ঝড়ঝঞ্ঝার পর যেসব গাছ বাঁচবে, তাতেও নতুন করে ফুল ফোটার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক জানান, মাঠ ও উঁচু জমির ফুলচাষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সামনের মৌসুমে ফুলের সংকটের আশঙ্কা আছে। তবে পদ্মফুলের ক্ষেত্রে ছবি উল্টো: কয়েক বছর ধরে নদী ও খালপাড়ের যেসব জমিতে ধান হচ্ছিল না, সেখানে এবং খাল, নয়ানজুলি ও পতিত জমিতে পদ্মের চাষ হচ্ছে, আর অতিরিক্ত বর্ষণে পদ্মের কোনো ক্ষতি হয়নি। আপাতত কোথাও পদ্মের ঘাটতি নেই।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের উলুবেড়িয়া প্রতিনিধি মহম্মদ মহসিনের।
ছবি: Arne Hückelheim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)