সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮০%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

গবাদিপশুর শীতকালীন পরিচর্যা কেমন হবে?

মো. আনসারুজ্জামান সিয়াম

মো. আনসারুজ্জামান সিয়াম

বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাস বেশি শীত থাকে। গবাদিপশু মানুষের মতো শীতের তীব্রতা প্রকাশ করতে পারে না। তবে পশুর শরীরের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যই তা প্রকাশ করে। আমরা শীতে মোটা কাপড়, জ্যাকেট এবং রাতে কম্বল পরিধান করি। কিন্তু অবলা প্রাণী হিসেবে তাদের প্রতি যত্ন নেওয়াটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

শীতকালে সাধারণত শীতল হাওয়া বয় বেশি। এ ছাড়া এ সময় গবাদিপশুর তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। এটি হাইপোথার্মিয়া নামে পরিচিত। শীতের সময়ে গবাদিপশু ও বাছুর নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে ভোগে বেশি। এ সময় অ্যালার্জির বিভিন্ন রকমের সংক্রমণ দেখা যায়। এ ছাড়া প্রাণী বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগে ভুগে থাকে। যেমন- গলাফোলা রোগ, তড়কা রোগ, ল্যাম্পি স্ক্রিন ডিজিজ, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি।

গোয়ালঘর অর্থাৎ গরুর বাসস্থান সব সময় বাইরের বাতাস থেকে মুক্ত রাখতে হবে। খামারে ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগ যেন বৃদ্ধি না পায় এ জন্য অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সর্বদা চলমান রাখতে হবে। ঘরের ভেতরে যেন উষ্ণ গরম থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পাটের তৈরি বস্তা, কম্বল এবং গবাদিপশুর জন্য আধুনিক জ্যাকেট পাওয়া যায়; সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। বেডিং উপাদান হিসেবে শুকনো খড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

খামারের চারদিকে পলিথিন দিয়ে এমনভাবে ঢাকতে হবে, যেন কুয়াশা অথবা বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় ফুটরুট ও লিভার ফ্লুক বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত ডিওয়ার্মিং ও ভ্যাক্সিনেশন করতে হবে। এ ছাড়া সার্বিক প্রয়োজনে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।

আরও পড়ুনখাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশদূষণ

শীতকালে খাবার পানি গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। খাবার পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দিতে হবে। এ সময় গবাদিপশুর এনার্জির পরিমাণ কমে যায়। তাই খৈল, ভুষি, গম ও চিটাগুড় ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া ভিটামিন, জিংক, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। উৎপাদন ক্ষমতা যেন কমে না যায়, তাই ভিটামিন ই, এ, ডি, বি কমপ্লেক্স দিতে হবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি সরবরাহ করা যায়।

গর্ভবতী প্রাণীর ক্ষেত্রে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে। গর্ভধারণের শেষ ২-৩ মাস ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে ক্যালসিয়াম, জিংক এবং ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। নয়তো পেটের বাচ্চা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্বল বাচ্চা জন্ম দেবে। এ ছাড়া ম্যাস্টাইটিস রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না সেটা লক্ষ্যণীয় বিষয়।

অন্যথায় চিকিৎসা খরচ বাড়ার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন কমে যাবে। গর্ভবতী গাভিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস দিতে হবে। অতিরিক্ত ইউরিয়া দিয়ে উৎপাদিত ঘাস পরিহার করতে হবে। নয়তো পাতলা পায়খানা হবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি খেতে দিতে হবে।

পরিশেষে শীতকালীন পরিচর্যাই পারে গবাদিপশুকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে। তাই শীতকালীন পরিচর্যার জন্য মালিককে সচেতন ও পরিচর্যামূলক মনোভাবাপন্ন হতে হবে। তাহলেই শীতের প্রকোপ থেকে বেঁচে যাবে নিরীহ প্রাণীগুলো।

লেখক: ৪র্থ বর্ষ, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বরফের রাজ্য গরম হচ্ছে দ্রুত, হিমবাহ হ্রদের বন্যায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ভারতে

কপ৩১-এর আগে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন বলছে, ১.৫ ডিগ্রির সীমা সাময়িক পেরোলেও বরফের ক্ষতি স্থায়ী হবে; জাতিসংঘের নেতৃত্বে আরেক গবেষণা বলছে, ১৮৩৫ সাল থেকে হিমবাহ হ্রদের বন্যায় ভারতে মারা গেছেন ৬ হাজার ১১৯ জন।

ডাউন টু আর্থ২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

কপ৩১-এ ঋণ নয়, অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ

তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ৩১-এর ১১-১২ নভেম্বরের ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিটে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; বাংলাদেশ সেখানে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন ও বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর জবাবদিহি দাবি করবে।

বাসস২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সিংড়ার লাড়কিবাড়ী বিলে বিষ, সামাজিক মাছ চাষে চার লাখ টাকার ক্ষতি

নাটোরের সিংড়ায় চার দশক ধরে সামাজিকভাবে মাছ চাষ হওয়া লাড়কিবাড়ী বিলে রাতে কীটনাশক দেওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকার মাছ মরেছে; বিলের দখল নিয়ে বিরোধকে দায়ী করছেন চাষিরা।

সমকাল২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)