কেক, পেস্ট্রি, কুকিজ বা পাউরুটির জন্য একসময় বেকারি বা দোকানই ছিল ভরসা। এখন অনেকের রান্নাঘরেই তৈরি হচ্ছে কেক, কুকিজ, ব্রেড, পিৎজা, ব্রাউনি, কাপকেক, ডোনাট আর নানা ডেজার্ট। কেউ বানাচ্ছেন শখে, কেউ একে নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। ফল, বাদাম, খেজুরের মতো দেশি উপকরণে নতুন স্বাদের কেকও তৈরি হচ্ছে।
অনেকের কাছে কারণটা নিরাপদ খাবার। কয়েক বছর ধরে বাসায় বেকারি পণ্য বানাচ্ছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের কানিজ ফাতেমা। তাঁর মতে, বাইরের সস, মেয়নেজ, রুটির ডো বা পিৎজা কোন পরিবেশে তৈরি হয় ক্রেতা জানেন না, আর শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্কদের জন্য তা ঝুঁকির।
তরুণ-তরুণী ও নারীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ার পেছনে আছে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে ঘরে তৈরি কেকের ছবি ও ভিডিও। একটি ভিডিও দেখে শুরু হওয়া শখ অনেক সময় ছোট ব্যবসার ভিত্তি হয়ে উঠছে; ঢাকার নানা এলাকায় এখন অনেক হোম বেকার নিজেদের রান্নাঘরে অর্ডার নিয়ে কাজ করছেন।
মিরপুরের জেসমিন আক্তার তেমনই একজন। ২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে তিনি বেকিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন, ২০২০ সালের শেষ দিকে বাসায় কেক বানানো শুরু করেন, প্রথমে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের ছোট অর্ডারে। এখন তাঁর ব্যবসা বড় পরিসরে চলছে, ফেসবুকে 'জেসমিন বেকিং অ্যান্ড কুকিং' নামে পেজও আছে। তাঁর মতে, দোকান ভাড়া, কর্মচারী বা সাজসজ্জার খরচ নেই বলে হোম বেকিং শুরু করতে পুঁজি কম লাগে, আর সামর্থ্য বুঝে ধীরে ধীরে সরঞ্জাম বাড়ানো যায়।
হোম মেইড চকো ল্যাবের উদ্যোক্তা শাহনাজ আক্তার মনে করেন, পছন্দমতো খাবার পাওয়ার সুযোগও মানুষকে টানছে। অনেক ক্রেতা চান কম মিষ্টি, নির্দিষ্ট স্বাদ, পছন্দের নকশা বা নির্দিষ্ট উপকরণ; দোকানে সবসময় সে সুযোগ মেলে না, হোম বেকারের কাছে মেলে। উপকরণের মান, পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণ নিয়েও ক্রেতা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
ছবি: Ion.bostan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)