নিউজিল্যান্ডের হক্স বে অঞ্চলের হেরেতাউঙ্গা সমভূমির (Heretaunga Plains) চাষিরা বলছেন, ক্ষয়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে পানির বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনা কার্যকর হলে তাঁদের অনেক ব্যবসা টিকবে না। আঞ্চলিক কাউন্সিল অবশ্য বলছে, এই সম্পদ রক্ষা করতেই হবে। বিশেষ প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে এ খবর দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি নিউজিল্যান্ড।
হেরেতাউঙ্গা জলাধারকে দীর্ঘদিন অফুরন্ত মনে করা হতো। হক্স বে আঞ্চলিক কাউন্সিলের চেয়ার সোফি সিয়ার্স (Sophie Siers) বলেন, পর্যাপ্তের চেয়ে বেশি পানি আছে ধরে নিয়ে ১৬ কোটি ঘনমিটার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, এখন জানা যাচ্ছে তা সত্য নয়। কাউন্সিলের ট্যাংক (TANK) পরিকল্পনা প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে বরাদ্দ ৯ কোটি ঘনমিটারে নামাতে চায়; কোনো কোনো বছরে মাত্র ৩ থেকে ৪ কোটি ঘনমিটার পানি ব্যবহার হয়েছে। চাষিদের হিসাবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষতি ৪০০ কোটি ডলার।
চারটি নদী অববাহিকা নিয়ে এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালতে ১৬টি আপিল হয়েছে; সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন সংস্কার চলায় কাউন্সিল শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন করেছে। অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ, বিদ্যমান অধিকার নবায়ন করে রাখা হয়েছে; ফলে এখন কেউ নতুন করে পানির আবেদন করতে পারছেন না। কাউন্সিলের নীতি ও বিধি বিভাগের ব্যবস্থাপক ক্যাটরিনা ব্রান্টন (Katrina Brunton) জানান, প্রায় ১,০০০ অনুমতিধারীর মধ্যে ১০০ জন নতুন বরাদ্দ মেনে নিয়েছেন।
অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ থমকে আছে। পানিসহ এই সমভূমির জমির দাম হেক্টরপ্রতি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, পানি ছাড়া মাত্র ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত; সিয়ার্স বলেন, পানির নিশ্চয়তা ছাড়া ব্যাংক ঋণ দেয় না।
কাউন্সিলের আঞ্চলিক পানি পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক ও ব্যবস্থাপিত উপায়ে জলাধার পুনর্ভরণ, শহরের পাইপের ছিদ্র মেরামত ও বর্জ্যপানি পুনর্ব্যবহারও আছে। হোয়ানাহোয়ানায় একটি পানি সংরক্ষণ প্রকল্প কাউন্সিল, চাষি, শিল্প ও মাওরি গোষ্ঠীর অংশীদারত্বে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে। সিয়ার্স টুইফোর্ডের ফলচাষিদের উদাহরণ দেন, যাঁরা নিজেদের বরাদ্দ একসঙ্গে ভাগ করে পানি বাঁচাচ্ছেন; বাষ্পীভবন কমাতে মাটির নিচে ড্রিপ সেচেরও পরীক্ষা চলছে। তাঁর কথায়, জমি ততটাই উৎপাদনশীল, যতটা পানি সে পায়; তবে জলাধারটি এখনো ভালো অবস্থায় আছে, নাইট্রেট বা লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের সমস্যা নেই।
ছবি: Citikiwi / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)