নিউজিল্যান্ডের হকস বে এলাকার আপেলচাষি জন বস্টক (John Bostock) কোরীয় অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করে ‘হেগিয়াম’ (Haegeum) নামের সোনালি কিউই ফল বাজারজাতের দক্ষিণ গোলার্ধের একচেটিয়া স্বত্ব নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এটি দেশের কিউই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।
জেসপ্রির (Zespri) ব্র্যান্ডের বাইরে প্রথম সোনালি কিউইয়ের উন্নয়ন পরীক্ষার দক্ষিণ গোলার্ধের কেন্দ্র হবে হকস বে। চীনা সোনালি কিউইয়ের বংশধর এই টেট্রাপ্লয়েড জাতের উদ্ভিদ জাত স্বত্ব জুন থেকে ২৩ বছরের জন্য বস্টকের হাতে। তাঁর দাবি, রং, স্বাদ, চেহারা, রোগ সহনশীলতা ও ফলনে এটি অন্য সোনালি জাতের চেয়ে ভালো।
১৯৯৯ সালের কিউই ফল রপ্তানি বিধিমালা ও কিউই ফল পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার বাইরের বাজারে নিউজিল্যান্ডের কিউই রপ্তানির একমাত্র বৈধ রপ্তানিকারক জেসপ্রি। বস্টক নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায়—প্রায় তিন কোটি মানুষের বাজারে—ফলটি বিক্রি করতে পারবেন, কিন্তু তিনি চান দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনের দামি বাজার। জেসপ্রির ব্যবস্থাকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় বাধ্যতামূলক যৌথ ব্যবস্থা’ বলেছেন; তাঁর মতে নিউজিল্যান্ড তার জাত দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি করতে পারে, অথচ কোরীয় জাত এখান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানির সুযোগ দেয় না।
কিউইর দাম এখন ভালো থাকায় বড় পরিবর্তনের আগ্রহ কম বলে মনে করেন বস্টক; তাঁর ভাষায়, আয় কমলেই চাষিরা নড়েচড়ে বসবেন।
আগের চ্যালেঞ্জগুলো সফল হয়নি। এক দশকের বেশি আগে টার্নার্স অ্যান্ড গ্রোয়ার্স জেসপ্রির একাধিকার নিয়ে হাইকোর্টে যায়; আদালত আইনি ব্যবস্থা বাতিল করেনি, আর পিএসএ রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় টার্নার্স আপিল প্রত্যাহার করে। ২০১৬ সালে হাইকোর্ট রায় দেয়, স্বাধীন রপ্তানিকারকেরা কেবল জেসপ্রির সঙ্গে যৌথ বিপণনের মাধ্যমেই কাজ করতে পারবে।
জেসপ্রি মন্তব্য করেনি। নিউজিল্যান্ড কিউইফ্রুট গ্রোয়ার্সের প্রধান নির্বাহী কলিন বন্ড বলেন, একক বিক্রেতা ব্যবস্থা চাষিরাই চাষিদের জন্য গড়েছেন এবং এটি দেশের জন্য বড় মূল্য তৈরি করছে; নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিউইফ্রুট এনজেডের তত্ত্বাবধানে যৌথ বিপণনের মাধ্যমে জেসপ্রির বাইরের রপ্তানিকারকদেরও সুযোগ আছে।
ছবি: A.j.morris / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)