জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, এ প্রশ্ন তুলে সমকালে কলাম লিখেছেন সাংবাদিক ও কলাম লেখক হাসান মামুন। তাঁর মতে, গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হলেও তা দেশি উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ার কারণে নয়; দুর্ঘটনায় বসে যাওয়া একটি এলএনজি টার্মিনাল আবার কাজে ফেরায় এসেছে। লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
কলামে বলা হয়েছে, গ্যাসের প্রদর্শিত চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, সব ঠিক থাকলে মেলে বড়জোর ২৮০ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি বিকল হলে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ একবারে কমে যায়। চালু গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ ২০১৭ সাল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে; সরকার আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বিশেষজ্ঞরা ‘হ্যাঁ’ বলছেন।
কৃষির জন্য লেখকের উদ্বেগ স্পষ্ট: গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সার কারখানা কোনোটাই ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না, সার আমদানি বাড়ছে, অথচ বেশি দূরে নেই উপকরণনির্ভর বোরো মৌসুম, যখন সেচের সঙ্গে অনেক বেশি সার লাগবে। ভোলায় পাওয়া গ্যাস সেখানেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা গড়ে ব্যবহারের পরামর্শের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
রান্নার জ্বালানি নিয়েও কলামে উদ্বেগ আছে। পাইপলাইনের গ্যাসে অনিশ্চয়তায় অনেক পরিবার এলপিজিতে গেছে, গ্রামেও এর ব্যবহার বেড়েছে; ব্যবহারকারী প্রায় এক কোটি বলে ধারণা। চলতি মাসে এলপিজি আমদানি ২৫ শতাংশ কমেছে, বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে; মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত।
লেখকের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, তরল জ্বালানির প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়, আর গ্যাসের অভাবে শিল্পে বিনিয়োগ স্থবির। এর প্রভাব কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলাতেও পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
ছবি: Evil Monkey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)