বাজারের রাসায়নিক সারে ফলানো রসুন না কিনে বাড়ির বাগান, বারান্দা বা ছাদের টবেই টাটকা জৈব রসুন ফলানো যায়, আর তাতে বেশি জায়গা বা যত্ন লাগে না। এই সময়ের জীবনযাপন পাতায় অঙ্কিতা দাশের লেখায় টবে রসুন চাষের ধাপগুলো দেওয়া হয়েছে।
প্রথম কাজ ঠিক বীজ বাছাই। সুপারমার্কেট বা সাধারণ দোকানের রসুনে অঙ্কুরোদ্গম দেরি করাতে অনেক সময় রাসায়নিক স্প্রে করা থাকে, তাই চাষের জন্য নার্সারি বা বিশ্বস্ত দোকান থেকে চাষের উপযোগী 'সিড গার্লিক' নেওয়া ভালো। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বড় কোয়ার 'হার্ডনেক' জাত, আর উষ্ণ বা আর্দ্র আবহাওয়ায় 'সফটনেক' জাত বেশি উপযোগী। কোয়া পোঁতার ভালো সময় শরৎ বা শীতের শুরু, অক্টোবর থেকে নভেম্বর; বেশি ঠান্ডা পড়ার অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ আগে পুঁতলে শিকড় মজবুত হয়।
মাটি হতে হবে ঝুরঝুরে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ; তাতে ভালো মানের জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নিন। পোঁতার ঠিক আগে কোয়াগুলো আলতো করে আলাদা করুন, শুকনো খোসা পুরো তুলে ফেলবেন না, বড় ও সুস্থ কোয়া বেছে নিন। প্রতিটি কোয়া অন্তত ২ ইঞ্চি গভীরে, একটি থেকে আরেকটি অন্তত ৫ ইঞ্চি দূরে, সরু মুখ ওপরে আর চ্যাপ্টা গোড়া নিচে রেখে পুঁতে হালকা করে মাটি চেপে দিন।
পোঁতার পর মাটির ওপর শুকনো পাতা বা খড়ের মোটা আস্তরণ (মালচিং) দিলে আর্দ্রতা থাকে, অতিরিক্ত ঠান্ডায় মাটি জমে না, আগাছাও কম হয়। অঙ্কুর বের হলে নিয়মিত পানি দিন, সপ্তাহে প্রায় ১ ইঞ্চি পানি লাগে, তবে টবে যেন পানি না জমে, তাতে শিকড় পচতে পারে। রসুনের শিকড় মাটির ওপরের স্তরে থাকে, তাই টবের আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করুন। গরমের শুরুতে গাছের মাথায় প্যাঁচানো ডাঁটা বা ফুল (স্কেপ) বের হলে গোড়া থেকে কেটে দিন।
গ্রীষ্মের শেষ দিকে নিচের পাতাগুলো শুকিয়ে বাদামি হতে শুরু করলে আর ওপরের ৩-৪টি পাতা সবুজ থাকলে রসুন তোলার সময় হয়। টান না দিয়ে গোড়ার মাটি আলগা করে পুরো গাছসহ তুলুন, না ধুয়ে নরম কাপড় বা ব্রাশে মাটি ঝেড়ে ছায়াযুক্ত বাতাস চলাচলের জায়গায় ৩-৪ সপ্তাহ ঝুলিয়ে শুকান। খোসা মচমচে হয়ে গেলে শিকড় ও ডাঁটা ছেঁটে ঝুড়ি বা জালের ব্যাগে অনেক দিন রাখা যায়।
ছবি: Downtowngal / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এই সময়




মন্তব্য
(০)