কয়েক বছরের মুনাফায় গড়ে ওঠা চলতি মূলধন এখন কম মুনাফার চাপে ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের শস্যচাষিরা। ফার্ম ক্রেডিট মিড-আমেরিকার কৃষিঋণ বিভাগের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট রুডি পিটজার পেরি ডিটিএনকে বলেন, উৎপাদন খরচ, সুদের হার ও যন্ত্রপাতির ব্যয় নগদ প্রবাহে চাপ দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, গত দুই বছরে অনেক খামার জমানো নগদের বড় অংশ খরচ করে ফেলেছে।
প্রথম প্রবণতা নগদ টাকা ধরে রাখা। কৃষকেরা লাভ-ক্ষতির সীমা খুঁটিয়ে দেখছেন, খরচ কাটছেন, যন্ত্র কেনা পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং পুরোনো যন্ত্র বদলানোর সময় বাড়াচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্সের আগস্টের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের তুলনায় বছরের এ পর্যন্ত দুই চাকা-চালিত ট্রাক্টরের বিক্রি ১২.৩ শতাংশ, চার চাকা-চালিত ট্রাক্টরের ২৪.৪ শতাংশ এবং স্বয়ংক্রিয় কম্বাইন হারভেস্টারের ৯.১ শতাংশ কমেছে।
দ্বিতীয়ত, জমির দাম টিকে আছে, যা ব্যালান্সশিটে সাহায্য করে কিন্তু নগদ প্রবাহে নয়। পেরি বলেন, তাঁদের এলাকায় জমির দাম শুধু টিকেই নেই, বেড়েছেও, যা মন্দার সময় সাধারণত দেখা যায় না। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির পশ্চিম ওহাইও সমীক্ষা বলছে, ২০২৫ সালের তুলনায় সেখানে চাষের জমির দাম ০.১ শতাংশ কমা থেকে ০.৯ শতাংশ বাড়ার মধ্যে থাকবে। ফার্ম ক্রেডিট সার্ভিসেস অব আমেরিকার হিসাবে আইওয়ায় চাষের জমি এক বছরে ১.৪ শতাংশ সস্তা হয়েছে, তবে পুরো অঞ্চলে দাম মোটামুটি স্থির, নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও ওয়াইওমিংয়ে সামান্য বেড়েছে। চড়া দামের কারণে জমি পাওয়াও কঠিন হচ্ছে, তাই কেউ কেউ পরিবর্তনশীল নগদ খাজনার চুক্তির দিকে ঝুঁকছেন।
তৃতীয়ত, অক্টোবরে অনেক পণ্য-উৎপাদকের কাছে পৌঁছানোর কথা এআরসি ও পিএলসি কর্মসূচির অর্থ, যার মোট পরিমাণ ইউএসডিএ কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে ১,৫০০ কোটি ডলারের (১৫ বিলিয়ন ডলার) বেশি ধরছেন। এই টাকা নগদ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। পেরির পরামর্শ, এ দিয়ে যন্ত্রপাতি বা অন্য স্থায়ী সম্পদ না কিনে পরিচালন খরচ ও বকেয়া পরিশোধ করা বা ব্যাংকে নগদ রাখা।
চতুর্থত, উচ্চ সুদের হার পরিচালন ঋণে চাপ দিয়েই যাচ্ছে। ফার্ম ক্রেডিট প্রতি মাসে এসব ঋণের সুদ নতুন করে ঠিক করে, তাই প্রাইম রেট বাড়লে চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ঋণগ্রহীতার সুদ বাড়ে। কয়েক বছর আগের তুলনায় খামারগুলোর স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেশি বলে এখন সিকি শতাংশের বৃদ্ধিও বেশি প্রভাব ফেলে। সার, জ্বালানি, বীজ ও বালাইনাশকের খরচ মিলিয়ে বছর শেষে মনে হয় যেন হাজারো ছোট ক্ষতে রক্ত ঝরছে, বলেন পেরি।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডিটিএনের জেক জাকোভস্কি।
ছবি: Nyttend / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)