চলতি মাসে চীনে আগাছানাশক গ্লুফোসিনেট-অ্যামোনিয়ামের দাম হু হু করে বাড়লেও গ্লাইফোসেটের দাম প্রায় একই আছে। দেশটির আর্থিক গণমাধ্যম এই পার্থক্যের পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্কারকে দেখছে, যা ছোট ও নিয়ম না মানা উৎপাদকদের বাজার থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।
২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দামের তথ্য অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর গ্লুফোসিনেট-অ্যামোনিয়ামের প্রচলিত কারিগরি গ্রেড টনপ্রতি ৫৫ হাজার ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা আগস্টের চেয়ে ১২.২৪ শতাংশ বেশি; কিছু কারখানা ৬০ হাজার ইউয়ান হাঁকছে, আর উচ্চ বিশুদ্ধতার এল-গ্লুফোসিনেট-অ্যামোনিয়াম ৭০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত। অন্যদিকে ৯৫ শতাংশ গ্লাইফোসেট দুর্বল চাহিদায় টনপ্রতি প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ ইউয়ানে লেনদেন হচ্ছে। কীটনাশক উপকরণের লিক্সিয়া কাঁচামাল মূল্যসূচক ২০ সেপ্টেম্বর ছিল ৭৩.৪০ পয়েন্ট, ২৩ আগস্ট থেকে মাত্র ২.৫৫ শতাংশ বেশি—অর্থাৎ দামের এই লাফ গ্লুফোসিনেটের নিজস্ব সরবরাহ পরিস্থিতির ফল।
তিনটি কারণ বলা হচ্ছে: ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কারখানার মজুত টানা কমে ১৮ সেপ্টেম্বর ১,১৩০ টনের ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে নেমেছে; ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে কিছু কীটনাশক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন কর ফেরত বাতিল হয়েছে; আর গ্লুফোসিনেট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী উপাদান ডাইইথাইল মিথাইলফসফোনাইটের সরবরাহে জট তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর ‘এক লাইসেন্স, এক পণ্য’ নিয়মে প্রতিটি নিবন্ধিত কীটনাশককে একটি যাচাইকৃত উৎপাদন লাইসেন্স ও অভিন্ন মানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। ফলে কম দামে পণ্য দেওয়া ছোট চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক ও লাইসেন্সহীন মিশ্রণকারীদের টিকে থাকা কঠিন হয়েছে, বাজার কেন্দ্রীভূত হচ্ছে শানডং শিয়ানদার মতো প্রতিষ্ঠিত উৎপাদকদের হাতে। গ্লাইফোসেটের উৎপাদকেরা বড় ও সংহত হওয়ায় সেটি তুলনামূলক কম প্রভাবিত।
বিশ্বের কারিগরি গ্রেডের গ্লুফোসিনেট ও গ্লাইফোসেটের বেশির ভাগ সরবরাহ করে চীন, আর গ্লাইফোসেট-প্রতিরোধী আগাছা ঠেকাতে গ্লুফোসিনেট এখন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ শতাংশের বেশি এই দাম টিকে থাকলে এক-দুই প্রান্তিকের মধ্যে উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিবেশক ও ফর্মুলেটরদের আমদানি খরচে তা পড়বে; তবে গ্রেড, অঞ্চল ও পদ্ধতিভেদে চীনা মূল্যসূচক আলাদা হয়, তাই ক্রেতাদের সরাসরি দর যাচাই করতে বলা হয়েছে।
ছবি: Pl77 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)