বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি প্রজাতির বন্য প্রাণী, উদ্ভিদ ও ছত্রাক ব্যবহার বা কেনাবেচা হয়, যা আগের প্রায় ৫০ হাজারের হিসাবের দ্বিগুণেরও বেশি। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার বরাতে এ খবর দিয়েছে ডাউন টু আর্থ। গবেষকদের হিসাবে অন্তত ১,০৭,৩৫৬টি অগৃহপালিত প্রজাতি এই ব্যবহার ও বাণিজ্যে জড়িত, যেখানে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক আন্তসরকার বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম আইপিবিইএসের ২০২২ সালের মূল্যায়নে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার।
গবেষণায় বাণিজ্যে ৪৭,৬৮৫টি প্রাণী প্রজাতি ও অন্তত ৪৯,৭২৩টি উদ্ভিদ প্রজাতি পাওয়া গেছে। ছত্রাকও এতে ধরা হয়েছে, ফলে তিনটি গোষ্ঠী মিলিয়ে বন্যপ্রাণী বাণিজ্য পর্যবেক্ষণের এটিই প্রথম বৈশ্বিক মূল্যায়ন। বাণিজ্য হওয়া প্রাণীর মধ্যে মেরুদণ্ডী প্রাণী ৩১,৩০৬টি পর্যন্ত, যা বর্ণিত সব মেরুদণ্ডী প্রজাতির ৪২ শতাংশ। বিপন্ন প্রজাতির বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক সনদ সাইটেসের তালিকায় থাকা আরও ৬৭৬টি প্রাণী প্রজাতির বাণিজ্যের কোনো রেকর্ড মেলেনি।
বিভিন্ন তথ্যভান্ডারে প্রজাতির সংখ্যা খুব আলাদা, অর্থাৎ বাণিজ্যের প্রকৃত আকার এখনো কম করে ধরা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ল এনফোর্সমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমেই বাণিজ্য হওয়া প্রাণী প্রজাতির ২৭.৫ শতাংশ এমনভাবে রেকর্ড হয়েছে, যা অন্য কোথাও নেই। অমেরুদণ্ডী প্রাণী সবচেয়ে কম নথিভুক্ত। অন্তত ১৬,৮২৯টি প্রাণী প্রজাতির বাণিজ্যিক কেনাবেচা নিশ্চিত হয়েছে, আর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ৭৯,৫৫৪টি প্রজাতির তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।
উদ্ভিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবহার ঔষধি, ২৬,৮৪২টি প্রজাতি; এরপর কাঠ ও অন্যান্য উপকরণে ১৩,৪১৮টি। ওষুধ, জৈব-চিকিৎসা গবেষণা, বিদেশি পোষা প্রাণী, শোভাবর্ধক গাছ, ফ্যাশন, খাদ্য ও শিল্প উপকরণের জন্য বন্যপ্রাণী কেনাবেচা হয়। গানের পাখি, সরীসৃপ, উভচর, প্রজাপতি ও শোভাবর্ধক মাছের পোষা প্রাণী ও অ্যাকুয়ারিয়াম বাণিজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর অনলাইন বাজারের প্রভাবও উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, দুর্বল নজরদারিতে অতিরিক্ত আহরণ, প্রাণী থেকে মানুষে রোগ ছড়ানো এবং আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ে। তাঁরা ডিজিটাল অনুমতিপত্র, শুল্ক বিভাগের ভালো প্রতিবেদন আর জোরালো পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের হিসাবে বৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বার্ষিক মূল্য ২২ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার কোটি ডলার, অবৈধ বাণিজ্যের ২,৮৪০ কোটি থেকে ৩,৯৫০ কোটি ডলার।
যেসব গ্রামীণ মানুষ ঔষধি গাছ, কাঠ ও বুনো খাবার সংগ্রহ করেন, আর যে কৃষকেরা আগ্রাসী বালাই ও প্রাণিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের কাছে গবেষণার এই ফাঁকগুলো বিমূর্ত নয়: যা গোনা হয় না, তা সামলানোও যায় না।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডাউন টু আর্থের হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
ছবি: Krotz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)