চিনি বিটের ভাইরাস ইয়েলোজ রোগ ছড়ায় জাবপোকা, আর সেই জাবপোকা ঠেকাতে রাসায়নিক ছাড়া একটি পথ খুঁজে পেয়েছেন ইংল্যান্ডের গবেষকেরা। নরফোকের মর্লি ফার্মসে (Morley Farms) ব্রিটিশ বিট রিসার্চ অর্গানাইজেশন—সংক্ষেপে বিবিআরও (BBRO)—একটি ‘অ্যাডপ্ট’ প্রকল্পে বিটের আগে শীতকালীন কভার ক্রপ হিসেবে এন্ডোফাইটিক ঘাস বুনেছিল। মে মাসের শেষে গণনায় গাছপ্রতি জাবপোকা মিলেছে মাত্র ০.৩টি; খামারের সাধারণ কভার ক্রপের পর লাগানো বিটে গড় ছিল ৫টি।
এন্ডোফাইটিক ঘাসের ভেতরে থাকে এক সহজীবী ছত্রাক, যা অ্যালকালয়েড তৈরি করে পোকাকে খেতে নিরুৎসাহিত করে। পরীক্ষায় ব্যবহৃত জাত ক্রপমার্ক সিডসের (CropMark Seeds) ‘ব্যারিয়ার’ মেডো ফেস্কিউ, যাতে আছে এপিক্লোয়ে আনসিনাটা (Epichloe uncinata) ছত্রাক; নিউজিল্যান্ডে চারণভূমিকে শিকড় ও পাতাখেকো পোকা থেকে বাঁচাতে এটি বহুল ব্যবহৃত। আগে বিবিআরও ঘাসের বীজ গুঁড়ো করে মাটিতে মেশানোর চেষ্টাও করেছিল; এখন খামারে পরীক্ষা হচ্ছে কভার ক্রপ পদ্ধতি।
পদ্ধতির চাবিকাঠি সময় আর জৈবভর। বিবিআরও-র ফসল সুরক্ষা প্রধান ড. অ্যালিস্টার রাইট (Alistair Wright) বলেন, দানাশস্য কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব ঘাস বসাতে হবে—জৈবভর যত বেশি, ছত্রাকও তত বাড়বে। তার পর ঘাসকে ইচ্ছে করে ‘আক্রমণ’ করা হয়, যাতে সে চরানো হচ্ছে ভেবে অ্যালকালয়েড উৎপাদন বাড়ায়: মর্লিতে অক্টোবরে রোলার চালিয়ে শীতের শুরুতে গ্লাইফোসেট দিয়ে ঘাস মারা হয়েছে।
মার্চে স্ট্রিপ টিলেজে বিট বোনা হয়, মরা ঘাসের প্রায় ৬০ শতাংশ অক্ষত রেখে। ঘাস পচার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে দ্রবণীয় অ্যালকালয়েড মাটিতে নেমে পরের ফসল টেনে নেয়। বিটের পাতায় কতটা অ্যালকালয়েড জমেছে তা যাচাইয়ে নমুনা নেওয়া হচ্ছে; মৌসুমজুড়ে ভাইরাস ইয়েলোজের মাত্রা, ফলন ও মাটির গুণও মাপা হবে। রাইটের ভাষায়, বড় কোনো জাবপোকার কলোনি তৈরিই হয়নি—বিট গাছ পোকার কাছে কম লোভনীয় হওয়ায় তারা কম সময় থাকছে, ফলে ভাইরাসও কম ছড়াচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।
পদ্ধতি এখনো নিখুঁত নয়। এ বসন্তে বিটের পাতার বৃদ্ধি কম হয়েছে; রাইটের মতে ছিটিয়ে দেওয়া সারের বড় অংশ মরা ঘাসের ওপর পড়ে বিট পর্যন্ত পৌঁছায়নি—যা সহজেই শোধরানো যাবে। মর্লির চাপে বসে যাওয়ার প্রবণ এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে রেখে দেওয়া ঘাস হারভেস্টারের চলাচল সহজ করে কি না এবং পরের যবের ফসলে কী প্রভাব পড়ে, তা-ও দেখা হচ্ছে।
নরফোকের আরও দুটি খামার প্রকল্পে আছে। ডকিংয়ের কাছে লাগডেন হিল ফার্মে দেখা হচ্ছে এই ঘাস ‘ডকিং ডিসঅর্ডার’-এর জন্য দায়ী পরজীবী কৃমি কমায় কি না; থেটফোর্ডের কাছে ব্রেটেনহ্যামের একটি খামারে পরীক্ষা চলছে যুক্তরাজ্যে এই ঘাসের বীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।
পাশাপাশি বিবিআরও ভাইরাস ইয়েলোজ জটিলতার তিনটি ভাইরাসের প্রতিটিতে সম্ভাব্য ফলন ক্ষতির ভিত্তিতে বিটের জাতগুলোর ‘এ+’ থেকে ‘এস’ (সংবেদনশীল) পর্যন্ত নতুন র্যাঙ্কিং আনার পরিকল্পনা করছে; বর্তমান সুপারিশ তালিকায় সহনশীলতার দাবি করা জাত তিনটি, ২০২৭-এ হবে চারটি। বিএএসএফ (BASF) তৈরি করছে নতুন কীটনাশক ডিমপ্রোপাইরিডাজ (বাণিজ্যিক নাম অ্যাক্সালিয়ন), যা ইউরোপের ৩২টি পরীক্ষায় গড়ে ৮৮ শতাংশ জাবপোকা নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিবন্ধনের আশা করছে কোম্পানিটি। কেমব্রিজে সুগার বিট গবেষণার আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটের সম্মেলন থেকে প্রতিবেদনটি করেছেন ফার্মার্স উইকলির মাইক অ্যাব্রাম (Mike Abram)।
সূত্র: Farmers Weekly

মন্তব্য
(০)