নির্ধারিত সময়ে কৃত্রিম প্রজনন (এফটিএআই) পদ্ধতিতে খামারি দামি ষাঁড় না কিনেও তার উন্নত জাত পালে আনতে পারেন, কিন্তু এতে সব গাভী গর্ভবতী হয় না। তাই প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য সহায়ক ষাঁড় রাখতেই হয়। বিফ সেন্ট্রালের সাপ্তাহিক জেনেটিকস পর্যালোচনায় অ্যালাস্টেয়ার রেইনার লিখেছেন, সেরা ফলের আশায় নয়, বাস্তবসম্মত ফল ধরে এই ষাঁড়ের পরিকল্পনা করা উচিত।
প্রথম কাজ মাপা। চূড়ান্ত গর্ভধারণের হার ভালো দেখালেও কৃত্রিম প্রজননের ফল হতাশাজনক হতে পারে, তাই কৃত্রিম প্রজননে আর ষাঁড়ে কতটি গাভী গর্ভবতী হলো, তা আলাদা গুনতে হবে। দুটির মধ্যে ব্যবধান মাত্র কয়েক সপ্তাহ হতে পারে বলে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে আগেভাগে গর্ভ পরীক্ষা করাতে হয়, যিনি ভ্রূণের বয়স বলতে পারেন।
এই হিসাবেই ঠিক হয় কটি ষাঁড় লাগবে। ১০০টি গাভীর দলে ৫৫ শতাংশ কৃত্রিম প্রজননে গর্ভবতী হলে বাকি থাকে প্রায় ৪৫টি; তখন ১০০টি গাভীর প্রাকৃতিক প্রজননের হিসাবে ষাঁড় দিলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হতে পারে। সমস্যা হলো, ষাঁড় ছাড়ার সময় সাধারণত কৃত্রিম প্রজননের ফল জানা থাকে না, আর আগে পরীক্ষা করতে গেলে প্রজননকাল লম্বা হয়, এফটিএআইয়ের সুবিধা, অর্থাৎ কাছাকাছি সময়ে বাছুর জন্ম, কমে যায়।
রেইনার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেকের ড. ক্লেয়ার টিমলিনের নেতৃত্বে করা এবং ২০২১ সালে ট্রান্সলেশনাল অ্যানিমেল সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা বলেছেন। এতে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের ১৩টি প্রজনন মৌসুমে ভার্জিনিয়ার ১৭টি খামারের ১৪,৮৬৮টি গাভীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়; বেশির ভাগ ছিল অ্যাঙ্গাস ও সিমেন্টালের সংকর, আর প্রজনন সক্ষমতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ষাঁড় এফটিএআইয়ের ১০ দিন পর দলে ঢুকে ৭০ দিন থাকত। কৃত্রিম প্রজননে গর্ভধারণ গড়ে ৫৪.৯ শতাংশ; গড়ে প্রতি ৩১টি গাভীর জন্য একটি ষাঁড় ছিল, যদিও ষাঁড়প্রতি মাত্র প্রায় ১৪টি গাভীর প্রজনন দরকার হয়েছিল।
প্রথম ঋতুচক্রে ফেরার সময় গর্ভধারণে ষাঁড়ের সংখ্যার প্রভাব সামান্য পাওয়া গেছে, তবে শরতের যেসব দলে একটিমাত্র ষাঁড় ছিল, সেখানে ষাঁড়প্রতি গাভী বাড়লে গর্ভধারণ কমেছে। গবেষক দল প্রস্তাব দিয়েছে, এফটিএআইয়ে নেওয়া প্রতি ৫০টি গাভীর জন্য একটি ষাঁড়; অর্ধেক গাভী গর্ভবতী হলে ষাঁড়প্রতি প্রায় ২৫টি থাকে। রেইনার মনে করিয়ে দেন, এটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা নয়, খামারের নথির বিশ্লেষণ, আর অস্ট্রেলিয়ায় চারণভূমির আকার, ভূপ্রকৃতি ও ষাঁড়ের বয়স ভিন্ন হতে পারে।
হরমোন দিয়ে ঋতুচক্র মেলানোর পর যেসব গাভী গর্ভধারণ করে না, তারা কাছাকাছি সময়ে আবার গরম হয়, ফলে অল্প সময়ে ষাঁড়ের ওপর চাপ বাড়ে; পরীক্ষায় সুস্থ ষাঁড়ও প্রজননকালে আঘাত পেতে পারে। ৫৫ শতাংশ গাভী কৃত্রিম প্রজননে গর্ভবতী হলেও বাছুরের বড় অংশ আসে সহায়ক ষাঁড় থেকে, তাই রেইনারের পরামর্শ, এসব ষাঁড়ও কৃত্রিম প্রজননের ষাঁড়ের মতো একই লক্ষ্যে বাছাই করতে হবে: গঠন, মেজাজ, সহজ বাছুর প্রসব ও প্রজনন মান সূচক (ইবিভি) দেখে।
অ্যালাস্টেয়ার রেইনার ভাইটেলের দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং রেইনারঅ্যাগের প্রধান।
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)