সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৬%বাতাস কিমি/ঘ

শেরপুরে তিন মাসে খরচের চারগুণ লাভ

মরুভূমির ফল 'সাম্মাম' এখন চাষ হচ্ছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে। প্রথমবারের মতো ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া এলাকায় চাষ করে সফলতা পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় কম খরচে বেশি লাভের দেখা পেয়েছেন তিনি। এতে আশেপাশের অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমাতে বিদেশি ফল চাষে আগ্র

ফল

মরুভূমির ফল 'সাম্মাম' এখন চাষ হচ্ছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে। প্রথমবারের মতো ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া এলাকায় চাষ করে সফলতা পেয়েছেন আনোয়ার হোসেন। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় কম খরচে বেশি লাভের দেখা পেয়েছেন তিনি। এতে আশেপাশের অনেকে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমাতে বিদেশি ফল চাষে আগ্রহীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।

কৃষি উদ্যোক্তা মো. আনোয়ার হোসেন বছর দুয়েক আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে বাড়িতেই শুরু করেন সবজি চাষ। তিনি বলেন, 'বাবার জমিতে সবজির পাশাপাশি নতুন কিছু করার জন্য খুঁজছিলাম। ইউটিউবে সাম্মাম সম্পর্কে জানতে পারি। রাজধানী থেকে বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি ২ জাতের সাম্মাম ফল। মাত্র ১ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। পরে পরাগায়ণের দেড় মাসের মধ্যে ফুল থেকে ফল ধরে।'

আনোয়ার হোসেন বলেন, 'গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে ফল পাকতে শুরু করে। মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এ ফল খাওয়া ও বাজারে বিক্রি করার উপযোগী হয়। ফলনও হয়েছে ভালো। এ ফল চাষে খরচ করেছিলাম মাত্র ২৫ হাজার টাকা। ১০ শতক জমিতে তিন মাসে খরচের চারগুণ লাভ হয়েছে। উৎপাদিত সাম্মাম ১ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে স্থানীয় বাজারে। আমার উৎপাদিত সাম্মামের এক জাতের বাইরের অংশ সবুজ, ভেতরে হলুদ। আরেক জাতের বাইরের অংশ হলুদ, ভেতরে লাল।'

আরও পড়ুন: ড্রাগন চাষে সফল বরগুনার শিক্ষক উজ্জল

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাম্মাম মূলত মরু অঞ্চলের ফল। আমাদের দেশে সাম্মাম হিসেবে পরিচিতি পেলেও অনেকে একে রকমেলন বা হানিডিউ মেলনও বলেন। বাংলাদেশে এর খুব একটা চাষ হয় না। তবে অনেক কৃষক এখন বিদেশি এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সুস্বাদু ও মিষ্টি জাতের এ ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ হলেও গারো পাহাড়ে এই প্রথম সফলতা মিলেছে। গাছ লাগানোর ২ মাসেই ফল পাকতে শুরু করে। পরিপক্ক একেকটি ফলের ওজন প্রায় ২ কেজি। সুস্বাদু ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হওয়ায় বাড়ি থেকেই ফল বিক্রি হচ্ছে। নতুন জাতের ফলে লাভের হাতছানি পেয়ে স্থানীয়রাও আগ্রহী হচ্ছেন চাষে।

আনোয়ারের বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, 'আমার ছেলে এ ফল চাষের কথা জানালে প্রথমে নিষেধ করি। এরপরেও আনোয়ার চাষ করে। ২ মাস পরেই দেখি গাছে অনেক ফুল ও ফল ধরেছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ ফল চাষ করবো।'

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী বলেন, 'শুনতেছি এটি দামি ফল। ফলটি খুব মিষ্টি ও রসালো। খেতেও সুস্বাদু এবং খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ। আনোয়ার পরীক্ষামূলকভাবে এ ফল চাষ করেছে। অনেক ফল ধরছে। আগামীতে এ ফলের চাষ আমিও করবো।'

আরও পড়ুন: বারোমাসি 'কাটিমন' আম চাষে সফল শামিম

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন দিলদার বলেন, 'আনোয়ার পরীক্ষামূলকভাবে সাম্মাম চাষ করে সফল হয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে বাগান নিরাপদ রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশেপাশের অনেকেই সাম্মাম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এটি চাষ করে লোকসানের ভয় নেই। কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।'

ইমরান হাসান রাব্বী/এসইউ/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

আমের প্রধান ক্ষতিকারক পোকা ও দমন ব্যবস্থাপনা: ফলন বাড়িয়ে লাভবান হওয়ার সেরা কৌশল

ফল ছিদ্রকারী পোকা, লাল মাকড়, হপার, কাণ্ড ছিদ্রকারী, পাতা মোড়ানো পোকা, ছাতা পোকা — আমের ছয়টি প্রধান শত্রু চেনার উপায়, ক্ষতি ও দমন: পরিচ্ছন্নতা, ফেরোমন ফাঁদ, জৈব ও রাসায়নিক বালাইনাশক।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
অন্যান্য

মার্চ মাসে কৃষিতে করণীয় কাজসমূহ

বোরোতে পানি ও ব্রাউন প্ল্যান্ট হপার, গ্রীষ্মের ধানের বীজতলা, গম কাটা, মুগ-মাসকলাই বপন, সূর্যমুখী-সয়াবিন, গ্রীষ্মের সবজি, আম-লিচুর মুকুল, পুকুর ও গবাদি পশু — মার্চে কৃষিতে করণীয়।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

বাড়িতে সহজেই আমের পরিচর্যা: সুস্বাদু ফল পেতে সহজ ও কার্যকর উপায়

টবের মাটি, হাফ ড্রাম, আম্রপালি-বোম্বাই-দশেরি জাত, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে রোপণ, সোজা করে লাগানো ও সেচ, বছরে সার, মুকুল-গুটি ঝরা ও পোকা দমন, প্রথম বছরের মুকুল ভেঙে দেওয়া — বাড়িতে আম চাষের পুরো নিয়ম।

তানিয়া চৌধুরী২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()