যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশুর চিকিৎসা করা ভেটেরিনারি প্র্যাকটিসগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা আগে থেকেই পশু চিকিৎসকের সংকটে থাকা এলাকাগুলোর চাপ আরও বাড়াচ্ছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অর্থনৈতিক গবেষণা সেবা (ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস, ইআরএস) এক গবেষণায় এ কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষায়, গ্রামীণ প্র্যাকটিসগুলো ভালো নেই; খাদ্য উৎপাদনকারী পশুর চিকিৎসা করা প্র্যাকটিসের আয় ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে।
গবাদিপশু ও মিশ্র প্রাণীর চিকিৎসায় নিয়োজিত গ্রামীণ প্র্যাকটিসের গড় আয় এই সময়ে প্রায় ২০ লাখ ডলার থেকে নেমে মোটামুটি ১৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাটি এর কারণ হিসেবে খামারে পশুর সংখ্যা কমে যাওয়াকে দেখিয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রামের খাদ্য-প্রাণী চিকিৎসকদের বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ শতাংশ কমে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারে নেমেছে। অথচ পোষা প্রাণীর চিকিৎসকদের আয় গ্রাম ও শহর দুই জায়গাতেই বেড়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, দূরত্ব ও সীমিত সুযোগসুবিধার মতো অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রাগত কারণে গ্রামে পশু চিকিৎসক পাওয়া কঠিন। শহরের পোষা প্রাণীকেন্দ্রিক প্র্যাকটিস আর্থিকভাবে বেশি আকর্ষণীয়। পড়াশোনার সময় অনেক চিকিৎসক বড় অঙ্কের ঋণ নেন, তাই নতুন স্নাতকদের কাছে কম বিচ্ছিন্ন জায়গায় বেশি বেতনের কাজই বেশি টানে। প্রতিবেদনে খাদ্য-প্রাণী চিকিৎসকদের মানসিক অবসাদকেও আয় কমার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
বেসরকারি পশু চিকিৎসকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি গরুর মাংস উৎপাদনের খামারে। হাঁস-মুরগি ও শূকর খাত অনেক বেশি সমন্বিত (ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড), ফলে সেখানে চিকিৎসার বড় অংশ ল্যাবের ফল এবং খাবার ও পানি গ্রহণের তথ্য দেখে দূর থেকেই করা যায়। অন্যদিকে মাংসের গরুর বেশির ভাগের মালিক ছোট খামারের কৃষকেরা; ৫০০টির কম গরুর খামারগুলোর হাতেই এখনও বড় খামারগুলোর চেয়ে বেশি গরু আছে।
পশু চিকিৎসকের সংকটপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কাউন্টিগুলো বিশ্লেষণ করে ইআরএস দেখেছে, গরুর খামার যেখানে আর খাদ্য-প্রাণী চিকিৎসক যেখানে কাজ করেন, তার মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল অমিল রয়ে গেছে। চিকিৎসক আনার প্রণোদনাগুলোও প্রায়ই তুলনামূলক জনবহুল এলাকাকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়, ফলে দূরের ও কম জনবসতির অনেক এলাকা এখনও বঞ্চিত। প্রতিবেদন বলছে, ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দূরবর্তী, কম জনসংখ্যার, ছড়ানো-ছিটানো কৃষি এলাকায়, যেখানে কর্মীরাও বয়স্ক।
ক্যাপিটাল প্রেসের জন্য মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন মাতেউশ পেরকোভস্কি।
ছবি: ইউএসডিএ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Capital Press




মন্তব্য
(০)