যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানি কয়েকটি পুরোনো ক্রেতাদেশে কেন্দ্রীভূত, অথচ খাদ্য ও পশুখাদ্যের চাহিদা ভবিষ্যতে বাড়বে মূলত উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে—নতুন এক প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে ডিটিএন।
নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ঝুঁকি নীতি কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক শন আরিতার লেখা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ফার্ম জার্নাল ফাউন্ডেশন। এতে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, ২০৩৪ সাল নাগাদ বিশ্বে মোট খাদ্যপ্রাপ্যতা যতটা বাড়বে, তার ৩৮ শতাংশ হবে আফ্রিকায়, ৩০ শতাংশ ভারতে, ১০ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়ায় আর মাত্র ২ শতাংশ চীনে।
মেক্সিকো, কানাডা, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবাণিজ্যের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নেয়। কিন্তু জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স্ক মানুষ বাড়ছে, খাদ্যভোগ স্থির; কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধপূর্ণ; আর চীনের চাহিদা বদলালে কত দ্রুত দাম ও খামারের আয় ওঠানামা করে, তা দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বড় বাজারে নীতিগত বিরোধ বা উৎস বদলেই এক বছরে শত শত কোটি ডলারের রপ্তানি সরে যেতে পারে।
আরিতার প্রস্তাব, একদিকে বাণিজ্যিক বাজার বৈচিত্র্যময় করা—যা ১৮টি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি ও বাজার প্রসার কর্মসূচির মাধ্যমে চলছে—অন্যদিকে ভবিষ্যৎ চাহিদা তৈরি করে এমন খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সহায়তা ধরে রাখা। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ কৃষি রপ্তানি গন্তব্যের ৯টিই উন্নয়নের আগের পর্যায়ে 'ফুড ফর পিস' সহায়তা পেয়েছিল।
তবে সেই সহায়তা কমছে। ফুড ফর পিসের বরাদ্দ ২০২৪ অর্থবছরের প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার থেকে ২০২৫ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলারে নামে, পরে ২০২৬ অর্থবছরে ১২০ কোটি ডলার হয়; বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে মার্কিন অনুদান ২০২৪ সালের প্রায় ৪৪৫ কোটি থেকে ২০২৫ সালে ২০৭ কোটি ডলারে নেমেছে, আর ১৬টি 'ফিড দ্য ফিউচার' উদ্ভাবন ল্যাবের ১৫টি ২০২৫ সালে বন্ধ হয়েছে। আরিতার সতর্কবার্তা, বড় কাটছাঁট দীর্ঘমেয়াদি বাজার তৈরির পথ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জেক জাইকোস্কি।
ছবি: Sudan Envoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)