সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মায় অভিযান, ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে সেদিনই পুড়িয়ে ফেলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মায় অভিযান, ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
মৎস্য

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর, শনিবার, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করেন মৎস্য কর্মকর্তারা। ইলিশ ধরায় তখন সারা দেশে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছিল। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। দুপুর সাড়ে ১২টায় শিলাইদহ ইউনিয়নের শিলাইদহ খেয়াঘাট থেকে অভিযান শুরু হয়, আর জব্দ জাল সেদিনই আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ ২৪ এ খবর প্রকাশ করে।

পদ্মায় যেভাবে অভিযান চলে


শিলাইদহ খেয়াঘাট থেকে অভিযানকারী দল নদীপথে উপজেলার কয়া, জগন্নাথপুর ও চরসাদিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আবার শিলাইদহ খেয়াঘাটে ফিরে আসে এবং বিকেল ৪টায় অভিযান শেষ হয়। পুরো অভিযানে থানার দুজন পুলিশ সদস্য এবং উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মীরা মৎস্য কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেন।

জব্দের তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সেদিনের অভিযানে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কিছু অসাধু জেলে তখনো নদীতে মাছ ধরছিলেন, আর তাদের ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় নদীতে অভিযান চালাচ্ছিল। কুমারখালীর এই অভিযানে কাউকে আটক, জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে নেই, কোনো জেলের নামও উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৫ সালের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান


কুষ্টিয়ার এই অভিযান ছিল সরকারের ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫’-এর অংশ। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর এই বিশেষ অভিযান চলবে। আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের ৪ দিন ও অমাবস্যার পরের ৩ দিনসহ এই ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। মূল প্রতিবেদনে প্রজনন মৌসুমের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর লেখা হয়েছিল; মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সময় শেষ হয় ২৫ অক্টোবর।

মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ও মৎস্যজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে, এবং সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করতে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা দুটোই এর মধ্যে রাখা হয়েছে। অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী অংশ নেবে। জলসীমার বাইরে থেকে মাছ ধরার ট্রলারের অনুপ্রবেশ বন্ধ রাখা হবে, নদীতে ড্রেজিং সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে, আর সমুদ্র, উপকূল ও মোহনাতেও একইভাবে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলে পরিবারের আয়ের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার জানায়, ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি পরিবারকে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারপ্রতি বরাদ্দ ২৫ কেজি চাল, সব মিলিয়ে ১৫ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন।

একই সংবাদ সম্মেলনে আগের বছরের অভিযানের ফলও জানানো হয়: ৫৪.৮৬ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ, ৬১২ লাখ মিটার জাল ধ্বংস এবং ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়। মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে ৫২.৫ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল, যা থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি জাটকা, অর্থাৎ ইলিশের পোনা, উৎপন্ন হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ২০২৫ সালের অভিযান আগের বছরের চেয়ে আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।

২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলো জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয়। ২০২৪ সালে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছিল ১২ অক্টোবর; প্রজননচক্রের বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে তা এগিয়ে আনা হয়, আর জেলেরা সময়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেন, প্রতি বছর আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মধ্যবর্তী সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যখন মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীতে আসে; তখন এগুলো ধরা হলে ভবিষ্যতের উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসবে।

এই নিষেধাজ্ঞা দুই দশকে ধাপে ধাপে বড় হয়েছে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০০৩-০৪ সালে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু করে, যাতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ে। ২০০৮ সাল থেকে আশ্বিনের পূর্ণিমা ঘিরে মা ইলিশ ধরায় ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতো; পরে গবেষণায় দেখা যায় ইলিশ পূর্ণিমা ও অমাবস্যা দুই সময়েই ডিম ছাড়ে, তাই বর্তমান ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

কুমারখালী, শিলাইদহ ও পদ্মা


কুমারখালী কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার একটি। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলাটির আয়তন ২৫৮.১৮ বর্গকিলোমিটার; এর অবস্থান ২৩°৪৪' থেকে ২৩°৫৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০৯' থেকে ৮৯°২২' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। এর উত্তরে পাবনা সদর উপজেলা ও পদ্মা নদী, দক্ষিণে শৈলকুপা উপজেলা, পূর্বে খোকসা উপজেলা এবং পশ্চিমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা। প্রধান নদী পদ্মা, গড়াই ও কালীগঙ্গা; ডাকুয়া খালও উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৩,২৮,৪৫৭ জন।

কুমারখালীর প্রশাসনিক ইতিহাস দীর্ঘ। ১৩টি পরগনা নিয়ে ১৮৫৫ সালে কুমারখালী থানা গঠিত হয় এবং ১৮৫৭ সালে এটিকে পাবনা জেলার একটি মহকুমায় উন্নীত করা হয়; ১৮৭১ সালে মহকুমাটি বিলুপ্ত হয় এবং এলাকাটি নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। ১৮৬৯ সালে গঠিত কুমারখালী পৌরসভা অবিভক্ত বাংলার প্রথম দিকের পৌরসভাগুলোর একটি। বাংলাপিডিয়ার বাংলা সংস্করণে ২০১১ সালের আদমশুমারির যে তালিকা আছে, তাতে ১১টি ইউনিয়নের নাম রয়েছে; অভিযান যেসব ইউনিয়ন দিয়ে গেছে, তার মধ্যে শিলাইদহের আয়তন ৪,৯৬৬ একর, কয়ার ৪,৮৪২ একর এবং জগন্নাথপুরের ৩,৬৩৯ একর।

উপজেলার ৪২.২৬ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। প্রধান ফসল ধান, গম, পাট, আখ ও ভুট্টা; বাংলাপিডিয়া জানায়, উপজেলায় বেশ কিছু মৎস্য খামার, দুগ্ধ খামার, হাঁস-মুরগির খামার, হ্যাচারি ও নার্সারি রয়েছে। উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার নৌপথ আছে, আর এখানকার ছয়টি মেলার একটি শিলাইদহ মেলা।

অভিযান যেখান থেকে শুরু ও যেখানে শেষ হয়, সেই শিলাইদহ পদ্মার দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী জায়গাটি গড়াই নদী পেরিয়ে জেলা সদর থেকে পাঁচ মাইল উত্তরে, আর পদ্মার ওপারে এর বিপরীতে পাবনা শহর। শিলাইদহের পুরোনো নাম খোরশেদপুর। সেখানে শেলি নামের এক নীলকরের তৈরি বলে কথিত একটি নীলকুঠি ছিল, আর গড়াই ও পদ্মার সংগমস্থলে একটি গভীর দহ, অর্থাৎ ঘূর্ণি, তৈরি হয়েছিল; এ থেকে গ্রামটির নাম হয় ‘শেলি-দহ’, যা কালক্রমে শিলাইদহ হয়ে যায়।

জায়গাটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্য। তাঁর পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এই জমিদারির মালিক হন, আর রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের নভেম্বরে। পদ্মা পুরোনো কুঠিবাড়ির কাছের পাড় ভাঙতে শুরু করলে সেটি ভেঙে তার উপকরণ দিয়ে নতুন কুঠিবাড়ি তৈরি হয়; সেখানে কবি ১৮৯১ থেকে ১৯০১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বাস করেন। কুঠিবাড়ির লেখার টেবিলে বা পদ্মার বুকে নৌকায় বসে তিনি সোনার তরী, চিত্রা ও চৈতালিসহ বহু রচনা লেখেন, আর ১৯১২ সালে এখানেই গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ শুরু করেন। কুঠিবাড়ি এখন সংরক্ষিত জাতীয় পুরাকীর্তি, সেখানে সরকার একটি ঠাকুর স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মার দক্ষিণ তীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। ছবি: শাহনূর হাবিব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই ৩.০)
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মার দক্ষিণ তীরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। ছবি: শাহনূর হাবিব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই ৩.০)

কুমারখালীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি বাংলাদেশে ঢোকার পর গঙ্গার মূল ধারা। বাংলাপিডিয়া ব্যাখ্যা করে, নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন দিয়ে দেশে প্রবেশের জায়গা থেকেই বাংলাদেশে গঙ্গা সাধারণভাবে পদ্মা নামে পরিচিত, যদিও জলবিজ্ঞানের দিক থেকে পদ্মা নামটি গোয়ালন্দঘাটে যমুনার সঙ্গে মিলনের পরের সম্মিলিত প্রবাহেরই প্রাপ্য। যে গড়াই ও পদ্মার সংগমে একসময় শিলাইদহের দহ তৈরি হয়েছিল, সেই গড়াই গঙ্গা-পদ্মা নদীব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তরের তিনটি নদীর একটি; বাকি দুটি আড়িয়াল খাঁ ও ভাগীরথী-হুগলি।

কুষ্টিয়া জেলার আয়তন ১,৬০৮.৮০ বর্গকিলোমিটার, খুলনা বিভাগে অবস্থিত। জেলার উত্তরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ, পূর্বে রাজবাড়ী এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মেহেরপুর জেলা। প্রধান নদী পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা ও কুমার। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৯,৪৬,৮৩৮ জন, আর ৫১.৭১ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে সূর্যাস্ত। ছবি: অলিউর প্রীতম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহে সূর্যাস্ত। ছবি: অলিউর প্রীতম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সেদিন মাছ রক্ষা আইনে যা ছিল


নিষেধাজ্ঞা ও জাল জব্দের ভিত্তি মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ (দ্য প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ অ্যাক্ট, ১৯৫০; ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ আইন নং ১৮, তারিখ ১৮ মে ১৯৫০) এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা। আইনের ৩ ধারা সরকারকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়, যার মধ্যে আছে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার মৌসুম নির্ধারণ, নির্দিষ্ট জলাশয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা, এবং যেকোনো ধরনের মাছ ধরার জালের ব্যবহার ও ফাঁসের আকার নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা। ৩(৪) ধারা অনুযায়ী এসব বিধিতে কারেন্ট জাল এবং তা দিয়ে ধরা মাছ জব্দ, অপসারণ ও বাজেয়াপ্তের বিধান রাখা যায়।

ইলিশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ১৩ বিধিতে। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১১ সালের ২ অক্টোবর পর্যন্ত সংকলিত পাঠে বিধি ১৩(১)(খ) প্রধান প্রজনন মৌসুমে তালিকাভুক্ত ইলিশ প্রজননক্ষেত্রসহ সারা দেশে ইলিশ ধরা এবং বহন, পরিবহন, বিক্রির জন্য উপস্থাপন, বিক্রি, প্রদর্শন বা দখলে রাখা নিষিদ্ধ করে; ২০১১ সালের ওই পাঠে প্রধান প্রজনন মৌসুম ছিল আশ্বিনের প্রথম পূর্ণিমা ঘিরে ১১ দিন। বিধি ১২ সরকারকে যেকোনো ধরনের মাছ ধরার জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ও ফাঁসের আকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়; সেই প্রজ্ঞাপন ভেঙে ব্যবহার করা জাল এবং তা দিয়ে ধরা মাছ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা যায়।

কারেন্ট জালের ওপর আলাদা নিষেধাজ্ঞা আছে ২০০২ সাল থেকে। মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০২ দ্বারা প্রতিস্থাপিত আইনের ২ ধারায় কারেন্ট জালের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে: বিভিন্ন ফাঁসের মনোফিলামেন্ট সিনথেটিক নাইলন সুতায় তৈরি মাছ ধরার জাল। একই অধ্যাদেশে যুক্ত ৪ক ধারা বলে, কোনো ব্যক্তি কারেন্ট জাল তৈরি, বানানো, আমদানি, বাজারজাত, মজুদ, বহন, পরিবহন, মালিকানায় রাখা, দখলে রাখা বা ব্যবহার করতে পারবেন না; যাদের কাছে এমন জাল ছিল, তাদের ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিকটবর্তী থানা, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়।

২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যে দণ্ডের বিধান কার্যকর ছিল, তা ২০০২ সালে প্রতিস্থাপিত ৫ ধারার। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের বাংলাদেশ আইন সংকলন ওয়েবসাইটের সরকারি পাঠ ও এর সংশোধনী টীকা অনুযায়ী সেগুলো ছিল:

  • ৩ ধারার অধীনে প্রণীত কোনো বিধি, যেমন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বা ৪ ধারার কোনো নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ: অন্যূন এক বছর ও অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড (ধারা ৫(১))।
  • কারেন্ট জাল তৈরি, বানানো, আমদানি, বাজারজাত বা মজুদ: অন্যূন তিন বছর ও অনধিক পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড (ধারা ৫(২)(ক))।
  • কারেন্ট জাল বহন, পরিবহন, মালিকানায় রাখা, দখলে রাখা বা ব্যবহার: অন্যূন এক বছর ও অনধিক তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড (ধারা ৫(২)(খ))।

৫ক ধারা অনুযায়ী, এই আইন বা এর বিধির অধীনে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে আদালত অপরাধে ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা যেকোনো জিনিস বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেবেন। ৭ ধারা অনুযায়ী এই আইনের অপরাধ আমলযোগ্য; কেবল মৎস্য কর্মকর্তা বা অন্যূন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত তা আমলে নেন; কেবল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এর বিচার করতে পারেন; আর ৫(২)(ক) ধারার তৈরি ও আমদানির অপরাধ ছাড়া বাকি সব অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করা যায়।

কারেন্ট জাল কেন নিষিদ্ধ, কেন পোড়ানো হয়


আইন কারেন্ট জাল ও সাধারণ মাছ ধরার জালের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টেনেছে। ২ ধারায় মাছ ধরার জাল বলতে বোঝানো হয়েছে কারেন্ট জাল ছাড়া অন্য ধরনের সুতায়, সিনথেটিক সুতাসহ, তৈরি বিভিন্ন ফাঁসের জাল; জাল রং করার প্রচলিত উপকরণ হিসেবে সেখানে গাবের ফল (Diospyros embryopteris), গরানের বাকল (Ceriops roxburghiana) ও আলকাতরার নাম আছে।

সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে বড় মাছের সঙ্গে ছোট মাছও ধরা পড়ে। বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৯৯২-৯৪ সালের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করেছে, যাতে অনুমান করা হয়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মৌসুমে প্রতি বছর জগৎ বেড়জাল, কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো সরঞ্জামে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ মেট্রিক টন জাটকা ধরা পড়ে, যার অর্ধেকের বেশি মেঘনায়। ২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞার আগে সরকারের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত আহরণে মজুদ কমে গেছে; নিয়ম হলো মোট মজুদের ৩০ শতাংশ আহরণ করে ৭০ শতাংশ রেখে দেওয়া, কিন্তু অবৈধ সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ও স্থানীয় ট্রলার দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরায় সব আকারের মাছ মারা পড়ছে।

জব্দ জাল পোড়ানো বহু বছর ধরেই প্রচলিত ব্যবস্থা। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারের ‘ল অ্যান্ড আওয়ার রাইটস’ পাতার একটি কলামে লেখক যুক্তি দেন, ২০০২ সালের সংশোধনীর পর থেকে সরকারি সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে কারেন্ট জাল জব্দ করছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্ট গার্ড ও অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ জাল পোড়ানো হচ্ছে, তবু আরও বেশি কারেন্ট জাল ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এই চক্র চলছেই। কলামে বলা হয়, আইন প্রয়োগের চাপ পড়ে মূলত গরিব জেলেদের ওপর, যাদের অনেকে মাছের একটি অংশ দেওয়ার শর্তে মহাজনের কাছ থেকে ধারে জাল নেন, অথচ জাল কারখানার প্রভাবশালী মালিকেরা কালেভদ্রে বিচারের মুখোমুখি হন।

একই কলামে উৎস পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতার একটি সীমার কথাও বলা হয়। তাতে ৭ এসসিওবি (২০১৬) (এইচসিডি) ১৩০-এ প্রকাশিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ের উল্লেখ আছে, যেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জাল কারখানা সিলগালা করাকে বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলা হয়, কারণ ১৯৫০ সালের আইন, ২০০২ সালের সংশোধনীসহ, কিংবা ১৯৮৫ সালের বিধিমালা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এমন ক্ষমতা দেয়নি।

ইলিশ ও উজানের নদী


ইলিশ (Tenualosa ilisha) হেরিং গোত্রের, অর্থাৎ ক্লুপিডি পরিবারের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এর দেহ বেশ চাপা, ধাতব রুপালি আঁশে ঢাকা; দৈর্ঘ্য ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত ধরা পড়া মাছ ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার। বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী ইলিশ দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়; মাছটি এক থেকে দুই বছরে প্রজননক্ষম হয়। ইলিশ মূলত প্লাংকটনভোজী; নীলাভ-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, কোপেপড ও রটিফার এর খাদ্য।

ইলিশ অভিপ্রয়াণী মাছ: সাগরে থাকে ও খায়, আর ডিম ছাড়তে নদীর উজানে আসে। ভাসমান ডিম পদ্মা, যমুনা ও মেঘনার উজানে ফোটে; পোনা নদীর খাতে বড় হয়, তারপর সাগরে নেমে যায় এবং প্রজননক্ষম হয়ে আবার ফেরে। একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। ইলিশ কমবেশি সারা বছর ডিম ছাড়লেও বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম থাকে; এ কারণেই অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডিম ফোটার ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যে পোনা প্রায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয় এবং জাটকা হিসেবে সাগরমুখী যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ (Tenualosa ilisha)। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ (Tenualosa ilisha)। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

কুষ্টিয়ার পদ্মার মতো নদীগুলো একসময় ইলিশ আহরণের কেন্দ্রে ছিল। বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৭২ সাল নাগাদ পর্যন্ত ইলিশ আহরণ মূলত উজানের নদীতে, প্রধানত পদ্মা, মেঘনা, করতোয়া, রূপসা, শিবসা ও পায়রায় সীমাবদ্ধ ছিল; পরে উজানে তা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং এখন ভাটির নদী, মোহনা, উপকূল ও সাগরেই বেশি কেন্দ্রীভূত। গঙ্গার পানি সরিয়ে নিতে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে মাছ উজানে ডিম ছাড়তে যাওয়ার আগেই উপকূল ও মোহনায় ধরা পড়ছে।

বাংলাপিডিয়া ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ফারাক্কার পর গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও তার ফলে ব্যাপক পলি জমা, নির্বিচারে জাটকা ধরা, অভিপ্রয়াণের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া, প্রজনন, খাদ্য ও লালনক্ষেত্র হারানো, নদীদূষণ বৃদ্ধি এবং উপকূলে যন্ত্রচালিত নৌকার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে। কুষ্টিয়ার কাছের একটি কারণও সেখানে আছে: কুমার নদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নবগঙ্গা হয়ে সাগর থেকে পদ্মায় ইলিশের অভিপ্রয়াণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ প্রচলিতভাবে ধরা হয় স্থির বা ভাসমান ফাঁসজাল, অর্থাৎ চান্দি জাল দিয়ে; বেড়জাল ও সাংলা জালেও কিছু ধরা পড়ে।

ইলিশের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের সঙ্গে আইনি স্বীকৃতিও আছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৭ সালের আগস্টে জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের আবেদনে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ইলিশকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করেছে; জামদানি শাড়ির পর এটি দেশের দ্বিতীয় জিআই পণ্য। ওয়ার্ল্ডফিশের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশ একাই উৎপাদন করে।

২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞার আগে আহরণ ও দাম


২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞা আসে একটি খারাপ মৌসুমের শেষে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম আলো জানায়, দেশে ইলিশ উৎপাদন ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৫ লাখ ৭১ হাজার টন থেকে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে নেমেছে, আর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪-২৫ সালে তা আরও কমবে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে আহরণ ছিল ২৯ হাজার ৫১৯ টন, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে তা ছিল ৪০ হাজার ২৯১ টন।

পত্রিকাটি জানায়, গবেষকদের মতে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, নদীর স্রোত, গভীরতা, বন্যা, খাদ্যের জোগান ও পানির মান ইলিশের প্রজনন ও আহরণের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। মৎস্য অধিদপ্তরের এক জরিপে মেঘনা-তেঁতুলিয়া মোহনা ও সংলগ্ন নদীতে ১৭টি জায়গায় ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত পাওয়া গেছে, যার ১৪টি মেঘনাতেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ চলাচলের জন্য প্রায় ৩০ ফুট পানি দরকার, কিন্তু অনেক মোহনায় ভাটার সময় পানি নেমে আসে মাত্র ৮ থেকে ৯ ফুটে। দক্ষিণাঞ্চলের নদীতে পলি ও ডুবোচরে গভীরতা কমেছে, শিল্পবর্জ্যে পানি দূষিত হয়েছে, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষায় বৃষ্টিও ছিল অস্বাভাবিক কম।

দামেও এই ঘাটতির প্রভাব পড়ে। প্রথম আলোর উদ্ধৃত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে ২০২৫ সালে ইলিশের দাম ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি ছিল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসাবে প্রতি কেজির দাম ২০১০ সালে ছিল ৪১৭ টাকা, ২০১৯ সালে ৭৮৯ টাকা, আর ২০২৫ সালে তা দাঁড়ায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায়। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২৫ সালের অক্টোবরে পদ্মাপারের কুমারখালীসহ নদী-তীরের মৎস্য কার্যালয়গুলো অভিযান চালায়, যাতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে।

ছবি: দেলোয়ার হোসেন / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)। ওপরের ছবিটি চাঁদপুরে জব্দ করা কারেন্ট জালের, প্রতীকী; কুমারখালীর অভিযানের নয়।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ (বাংলাদেশ আইন সংকলন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ (মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১১ পর্যন্ত সংকলন), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

পদ্মা-যমুনার মোহনায় জেলের জালে ৭২ কেজির তিন মাছ, বিক্রি প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার কাছে পদ্মা-যমুনার মোহনায় জেলে সেকেন হালদারের জালে ধরা পড়েছে ২৫ ও ২২ কেজির দুটি কাতল এবং ২৫ কেজির একটি বাঘাইড়; নিলাম আর পরের হাতবদলে তিনটি মাছের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এগ্রিকেয়ার২৪৩ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

দিরাইয়ের হাওরে কমছে দেশীয় মাছ, কারণ বলছেন কীটনাশক আর বিলে বিষ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের হাওর, খাল ও বিলে সারাদিন জাল ফেলেও দেশীয় মাছ মিলছে না; স্থানীয়রা ধানখেতে রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, ইজারা দেওয়া বিলে বিষ প্রয়োগ ও প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হওয়াকে দায়ী করছেন।

কৃষি সময়৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কিশোরগঞ্জের মেঘনা বিলে তিন ফসলি জমিতে মাছের ঘের, মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

কিশোরগঞ্জ সদরের মেঘনা বিলে তিন ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি ও সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা; বাঁধে পাঁচ বিলের পানি আটকে আমন-বোরো ডোবার আশঙ্কা।

কৃষি সময়৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)