গর্ভাবস্থা থেকে শিশুর দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত প্রথম এক হাজার দিনের পুষ্টিকে উন্নয়ন মাপার মূল মানদণ্ড করা উচিত, এমন যুক্তি দিয়েছেন ইথিওপিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেমেকে মেকোনেন (Demeke Mekonnen)। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উন্নয়ন নিয়ে এক সপ্তাহের আলোচনার পর সায়েডেভ ডট নেটে (SciDev.Net) লেখা কলামে তিনি এ কথা বলেন। মতামত লেখকের নিজের।
তিনি শুরু করেছেন একটি বৈপরীত্য দিয়ে: শিশুখাদ্যের ফর্মুলা কিনলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ে, অথচ বুকের দুধ খাওয়ানো, যা সুস্থ ও সক্ষম শিশু গড়ার সবচেয়ে মূল্যবান বিনিয়োগগুলোর একটি, হিসাবে আসে না। তাঁর মতে, এতে বোঝা যায় পৃথিবী মানব উন্নয়ন মাপছে উল্টো দিক থেকে: প্রাপ্তবয়স্কেরা কী অর্জন করলেন সেটা দেখা হয়, কিন্তু সেই অর্জনের ভিত কীভাবে তৈরি হলো তা নয়।
শৈশবের পুষ্টি যে পরের জীবন গড়ে দেয়, তার প্রমাণ হিসেবে মেকোনেন কয়েকটি গবেষণার কথা বলেছেন। গুয়াতেমালায় তিন বছর বয়সের আগে উচ্চ আমিষের সম্পূরক খাবার পাওয়া শিশুরা বড় হয়ে না-পাওয়াদের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি মজুরি পেয়েছে। জিম্বাবুয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপুষ্টিতে খর্বকায় শিশুরা কম বছর স্কুলে পড়েছে এবং সারা জীবনে প্রায় ১০ শতাংশ কম আয় করেছে। শৈশবে অপুষ্টির শিকার মেয়েদের সন্তানদেরও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, ফলে ক্ষতি গড়ায় পরের প্রজন্মে।
তাঁর লক্ষ্য মানব উন্নয়ন সূচক (এইচডিআই), যা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) আয়, শিক্ষা ও গড় আয়ু দিয়ে তৈরি করে। এই সূচকগুলো প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ফল দেখায়, শৈশবে শিশু কী পুষ্টি পেয়েছে তা নয়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তিনি নতুন কোনো র্যাংকিং চাইছেন না; চাইছেন বিদ্যমান সূচকেই শৈশবের পুষ্টিকে অর্থবহ জায়গা দেওয়া হোক।
এর জন্য ব্যয়বহুল নতুন ব্যবস্থা লাগবে না, কারণ দেশগুলোর জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে প্রয়োজনীয় তথ্যের বড় অংশ আগে থেকেই আছে। শক্ত পুষ্টি-তথ্য ব্যবস্থা আছে এমন কয়েকটি দেশ স্কেলিং আপ নিউট্রিশন (সান) আন্দোলনের কাঠামোর মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কাজটি শুরু করতে পারে, যাতে বড় পরিসরে যাওয়ার আগে তথ্য, তুলনাযোগ্যতা ও পদ্ধতির প্রশ্নগুলো মীমাংসা হয়।
উন্নয়ন সহায়তা কমে আসার এই সময়ে মেকোনেন সতর্ক করেছেন, পুষ্টিকে স্কুল, হাসপাতাল ও সড়কের সঙ্গে বরাদ্দের প্রতিযোগী একটি খাত হিসেবে দেখা ভুল। অপুষ্টিতে বিকাশ আটকে থাকা শিশু শ্রেণিকক্ষে এলে ভালো অর্থায়নের স্কুলও প্রত্যাশিত ফল দেয় না। মেকোনেন অপুষ্টি নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ইয়াদাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।
ছবি: USAID Ethiopia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: SciDev.Net




মন্তব্য
(০)